এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : সমালোচনা ছাপিয়ে আবারো চাঙা বিটকয়েন। চলতি বছরের ১৫ মের পর আবারো ৫০ হাজার ডলারের ওপরে উঠেছে ১ বিটকয়েনের দাম। বেড়েছে অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়াম আর ডগকয়েনের দাম। ভার্চুয়াল কারেন্সিতে বিনিয়োগ চলছে কয়েকবছর ধরেই।বারবারই এ বাজারে ধস নামছে, আবারো স্থিতিশীল হচ্ছে। অবশেষে ধীরে ধীরে মন্দার কবল থেকে বেরিয়ে আসছে ভার্চুয়াল মুদ্রা বিটকয়েন। কয়েক মাসের খারাপ অবস্থা কাটিয়ে ৫০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে এ মুদ্রার দাম। গত মে মাসের পর এবারই প্রথম বিটকয়েনের দাম ৫০ হাজারের কোটা ছাড়াল।
কয়েনডেস্কের তথ্য বলছে, রোববার লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ছিল বিটকয়েনের দাম। মূলত মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েনকে স্বীকৃতি দেওয়ায় এ ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।
শুধু বিটকয়েন না, ইথেরিয়াম, লাইটকয়েন ও বিটকয়েন ক্যাশকেও যুক্তরাজ্যের বাজারে কেনাকাটার স্বীকৃতি দিয়েছে পেপ্যাল। যুক্তরাজ্যের মানুষ পেপ্যালের অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনুমোদিত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাকাটা করতে পারবেন। পেপ্যাল জানিয়েছে, শিগগিরিই তাদের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে লেনদেনের জন্য আলাদা ট্যাব খোলা হবে। যেখানে এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার রিয়েল-টাইম দামও দেখা যাবে।
গেলো কয়েক মাস ধরে অস্থির ছিলো ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার। এর আগে এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওঠে এক বিটকয়েনের দাম। এরপর জুনে ২৮ হাজার ডলারে নেমে যায় এই ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য। ডিজিটাল কারেন্সি নিয়ে চীনের নেতিবাচক নানা পদক্ষেপের কারণে পড়ে যায় বিটকয়েনের দাম। কয়েক সপ্তাহ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারে ঘুড়পাক খায় ১ বিটকয়েনের দাম।
জুলাইতে আমাজন ঘোষণা দেয় ডিজিটাল কারেন্সিতে চাকরি দেবে তারা। এরপর কিছুটা চাঙা হয় বিটকয়েনের বাজার। টেসলা প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক আর টুইটারের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি বিটকয়েন নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার পর আরো চাঙ্গা হয় বিটকয়েনের বাজার।
পেপ্যালের গ্লোবাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসে ফার্নান্দেজ ডি পন্টে বলেন, করোনা মহামারির কারণে সবার ডিজিটাল জীবনেই যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন ডিজিটাল অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। সে কারণে যুক্তরাজ্যের মানুষ যেন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আরো বেশি অভ্যস্ত হয়, সেজন্য পেপ্যাল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহারকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার কথাও জানান তিনি।
এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পেল বিটকয়েন। গত বছরের অক্টোবরেই তারা দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করে। এক বিবৃতিতে বিটকয়েন বলছে, পেপ্যালের এ পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাজ্যের মূলধারার বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রবেশ ও বিস্তার পাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেল।
বিটকয়েন হলো একটি গোপন মুদ্রাব্যবস্থা। পিয়ার টু পিয়ার পদ্ধতিতে বা গ্রাহক থেকে গ্রাহকের কাছে এর লেনদেন হয়ে থাকে। এটাকে এক ধরনের সাংকেতিক মুদ্রাও বলা হয়ে থাকে। এর বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতির কারণে কোনো ব্যাংক বা সরকার এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই এ সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণাও প্রচলিত আছে। বর্তমানে এক বিটকয়েনের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৭২৮ টাকা।২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামে কোনো এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করে যা পিয়ার-টু-পিয়ার মুদ্রা বলে অভিহিত হয়। বিটকয়েনের লেনদেন হয় প্রেরক থেকে সরাসরি প্রাপকের কম্পিউটারে অনলাইনের ভিত্তিতে।
বিটকয়েনের লেনদেন হয় প্রেরক থেকে সরাসরি প্রাপকের কম্পিউটারে অনলাইনের ভিত্তিতে। এই লেনদেনগুলো সত্যায়িত করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফির মাধ্যমে এবং প্রকাশ্যে লিপিবদ্ধ করা হয় একটি খতিয়ানে। এই উন্মুক্ত খতিয়ানকে ব্লকচেইন বলা হয়। বিটকয়েন উৎপাদিত হয় মাইনিং এর মাধ্যমে যেখানে কম্পিউটারের প্রসেসিং ক্ষমতার ভিত্তিতে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হয়। লেনদেন থেকে মোট কত বিটকয়েন উৎপাদিত হবে, তা প্রতি চার বছর পরপর কমে যায়। এভাবে ২১৪০ সাল পর্যন্ত মোট ২ কোটি ১ লাখ বিটকয়েন তৈরি হবে। পরবর্তীতে আর কোনো নতুন বিটকয়েন তৈরি করা হবে না।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

