এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ফ্রান্সের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যঁ ক্লদ ইয়োঙ্কারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা।
ইমানুয়েল ম্যাখঁ। এক বছর আগে তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ সরকারের সদস্য ছিলেন। এর আগে ফরাসিদের কাছে তেমন একটা পরিচিত ছিলেন না তিনি। অথচ ৩৯ বছর বয়সী এই মধ্যপন্থী ম্যাখঁই এখন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।
ম্যাখঁ গত আগস্টে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করেন। এক বছরে ম্যাখঁর দল অঁ মার্শ আড়াই লাখ সদস্য পেয়েছে। তাঁর বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প : যুক্তরাষ্ট্র
ভোট গ্রহণের আগে ইউরোপন্থী নেতা ম্যাখঁকে বা কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা মেরিনা লি পেন এ দু’জনের কাউকেই সমর্থন না করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইমানুয়েলকে টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইমানুয়েল ম্যাখেঁ বড় বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন। আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করতে খুব আগ্রহী।’
হোয়াইট হাউস গতকাল রবিবার ম্যাখঁকে এবং ফ্রান্সের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ানও টুইটার বার্তায় ম্যাখঁকে অভিনন্দন জানান।

ভ্লাদিমির পুতিন : রাশিয়া
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ম্যাখঁ মস্কো ও প্যারিসের মধ্যে সম্পর্কের গভীর ফারাক দূর করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এক টেলিগ্রাম বার্তায় তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইউরোপ ও পুরো বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে যখন কঠিন একসময়, তখন ফ্রান্সের জনগণ আপনার ওপর আস্থা রেখেছে। সন্ত্রাসের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক অনাস্থা কাটিয়ে ওঠা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

থেরেসা মে : ব্রিটেন
ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনে সাফল্যের জন্ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নতুন এই প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফ্রান্স আমাদের এক ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশাল পরিসরে কাজ করতে আমরা আগ্রহী। থেরেসা মে এরই মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে ম্যাখেঁর সঙ্গে আলাপ করেছেন। আমরা ইইউ জোট ত্যাগ করলেও যুক্তরাজ্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দৃঢ় অংশীদারত্ব রাখতে আগ্রহী।

সি চিন পিং : চীন
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্বের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য দুই দেশ দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সির অভিনন্দনবার্তার বরাত দিয়ে বলেন, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চীন ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আশা করছি, বৈশ্বিক শান্তি ও অগ্রগতির জন্য দায়িত্বশীল পদক্ষেপ রাখবেন ম্যাখঁ।

শিনজো অ্যাবে : জাপান
প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে বলেন, ম্যাখেঁর বিজয় অন্তর্মুখিতা ও সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতীকী বিজয় এবং ইইউতে এটি একটি আস্থা ভোট হিসেবে দৃশ্যমান।

জাস্টিন ট্রুডো : কানাডা
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, প্রগতিশীল এজেন্ডা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আটলান্টিকের উভয় পাশে ভালো ও মধ্যবিত্তদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে ম্যাখেঁর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ : ফ্রান্স
ফ্রান্সের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদও ইমানুয়েল ম্যাখঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের পক্ষে আমাদের নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ। তাদের বেশির ভাগই এর পক্ষে রায় দিয়েছেন।

জ্যঁ ক্লদ জুঙ্কা : ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জুঙ্কার টুইট বার্তায় লেখেন, ফ্রান্স ইউরোপের একজন ভবিষ্যৎ নেতা নির্বাচন করায় খুশি হয়েছি। ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড তুস্ক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ফ্রান্স স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্বকে বেছে নিয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও তাজানি এএফপিকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আমরা একটি আস্থা ভোট পেয়েছি।

অ্যালেক্স সিপরেস : গ্রিস
প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্স সিপরেস বলেন, ম্যাখোঁর বিজয় ফ্রান্স ও ইউরোপের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
বাহরাম ঘাসেমি : ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম ঘাসেমি অভিনন্দন জানান। তিনি আশা করেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন যুগে প্রসারিত হবে।
এছাড়া হিলারি ক্লিনটনও ম্যাখঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার ফ্রান্সে দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এন মার্শ (অন দ্য মুভ) আন্দোলনের নেতা ইমানুয়েল ম্যাখঁ ৬৬.০৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। শতভাগ ভোট গণনার পর আজ সোমবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানায়। দেশটিতে এ নির্বাচনে মোট দুই কোটি সাত লাখ ভোটার সাবেক অর্থমন্ত্রী ম্যাক্রনকে তাদের সমর্থন জানান।
মন্ত্রণালয় জানায়, ম্যাখেঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা মেরিনা লি পেন ৩৩.৯৪ শতাংশ ভোট পান। নির্বাচনে মোট এক কোটি ছয় লাখ ভোটার কট্টর জাতীয়তাবাদী এ নেতাকে তাদের সমর্থন জানান। নির্বাচনে মোট ৭৪.৬২ শতাংশ ভোট পড়ে। এদিকে ৬.৩৩ শতাংশ ভোটার এ দুই প্রার্থীর কাউকে ভোট না দিয়ে সাদা ব্যালট জমা দেন। আবার ২.২৪ শতাংশ ব্যালট বাতিল করা হয়। আগামী সপ্তাহে নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

