Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৩০ কিলোমিটার সড়ক

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৩০ কিলোমিটার সড়ক

এমএনএ রিপোর্ট : এ বছর দ্বিতীয় দফা বন্যায় দেশের ২১টি জেলার ৭১৩০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামনেই ঈদুল আযহা। এ সময় দেশের অনেক জেলার সড়কের করুণ দশার কারণে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা উদ্বেগে আছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে জামালপুরের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। এ জেলার ১১০৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়। বন্যায় মোট ১৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগও এ জেলাতেই। এ জেলাতেই সবচেয়ে বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়।

অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলে ৯৯৭ কিলোমিটার, কুমিল্লায় ৮৮০ কিলোমিটার, পঞ্চগড়ে ৮৫৮ কিলোমিটার এবং নীলফামারিতে ৫৩৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আজ রবিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বৃষ্টি-বাদলের কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু কোনো অজুহাত দেখানো যাবে না। ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আজ ও কালকের মধ্য রাস্তা ঠিক করতে হবে।’ যশোর সার্কিট হাউসে সড়ক জনপথ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

যদিও গত বৃহস্পতিবার তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদযাত্রা ঝামেলাপূর্ণ হবে না। এদিন ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ঈদেও রাস্তার পরিস্থিতি ভালো ছিল। অতিরিক্ত জ্যাম ছিল না। এবারের ঈদেও থাকবে না। মহাসড়কগুলোকে সেভাবে প্রস্তুত রাখা হবে।

বন্যা সত্বেও মহাসড়কগুলো মোটামুটি ভালো অবস্থায়ই আছে বলেও দাবি করেন সেতুমন্ত্রী, যদিও কিছু কিছু জায়গায় সমস্যার কথা অস্বীকার করেননি তিনি।

এদিকে বন্যা পরবর্তী দেশের খাদ্য মজুদ নিয়ে গত বুধবার উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি মনে করছে, অতিরিক্ত বন্যার কারণে বহু ফসল নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সরবরাহে এর প্রভাব পড়বে। জাতিসংঘ এখন দেশের দুই লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।

দ্বিতীয় দফা এ বন্যায় দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে গিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৫ লাখ মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় গত বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউিএফপি) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টা রাডার এক বিবৃতিতে বলেন, অনেক বন্যাক্রান্ত মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর খাবারসহ সর্বস্ব হারিয়েছেন। তিনি বলেন, মানষের জরুরি ভিত্তিতে খাবার প্রয়োজন। বন্যার পুরোপুরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে দেশে দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সরবরাহের ওপর।

গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপে মারা গেছে অন্তত ৮০০ জন মানুষ। সাহায্য সংস্থাগুলো মনে করছে, এসব এলাকায় ব্যাপক খাবারের অভাব দেখা দেবে একই সাথে পানিবাহিত রোগের সংক্রমণও দেখা দেবে এসব এলাকায়।

বর্ষার বৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়াসহ বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য এক ধরণের লাইফলাইন হলেও এ সময় জানমালের প্রচুর ক্ষতি হয়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের বৃষ্টিপাত নিকট অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, বন্যায় এবার ২৪,৭১১ একর জমির ফসল ধুয়ে গেছে এবং ১৪ লাখ ৮২ হাজার ৬৩২ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় ডব্লিউএফপি ১ লাখ বয়স্ক ও অক্ষম নারীকে তিন মাস ৪০০০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে যাতে তারা এ টাকা দিয়ে জীবন ধারণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কাজটুকু করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বন্যা উপদ্রুত এলাকার মাুনষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...