এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিজু আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
গতকাল সোমবার রাতে ট্রেনে দিনাজপুর যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত পৌনে ৮টার দিকে ট্রেনের ভেতরেই হার্ট অ্যাটাক হয় বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান এই খলনায়কের। পরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুর খবরে তার সহকর্মী বন্ধু, অনুজসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতালে ছুটে আসেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, আমিন খান, অভিনেতা মিশা সওদাগরসহ আরও অনেকেই। বিদেহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন সবাই।
জানা গেছে, হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাতেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মিজু আহমেদের পান্থপথের কনকর্ড টাওয়ারের বাসায়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পান্থপথ জামে মসজিদে প্রথম জানাজার পর বেলা ১১টায় এফডিসিতে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান এফডিসির পেশ ঈমাম। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এফডিসিতে জানাজার আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা মিজু আহমেদকে শেষবারের মতো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, অমিত হাসান, ওমর সানী, আমিন খান, মিশা সওদাগর, টেলি সামাদ, সাইমন, জায়েদ খান, পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান গুলজার, অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড প্রমুখ।
জানাযার আগে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার হাত ধরে মিজু আহমেদ চলচ্চিত্রে এসেছিলেন। তার জানাযা পড়তে সত্যিই অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
মিজু আহমেদের ছেলে আশরাফুল আহমেদ জানান, তার বাবাকে কুষ্টিয়ায় দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হবে।
মিজু আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম মিজানুর রহমান। শৈশব থেকে থিয়েটারের প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলে যোগ দেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি কেয়া, মৌ ও হারশাদ নামে তিন সন্তানের জনক ছিলেন মিজু আহমেদ। তার স্ত্রীর নাম পারভীন আহমেদ।
১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কয়েক বছর পরে তিনি ঢালিউড চলচ্চিত্র শিল্পে অন্যতম সেরা একজন খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়া তিনি তার নিজের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস মুভিজের ব্যানারে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।
মিজু অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তৃষ্ণা (১৯৭৮), মহানগর (১৯৮১), সারেন্ডার (১৯৮৭), চাকর (১৯৯২), সোলেমান ডাঙ্গা (১৯৯২), ত্যাগ (১৯৯৩), বশিরা (১৯৯৬), আজকের সন্ত্রাসী (১৯৯৬), হাঙ্গর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), কুলি (১৯৯৭), লাঠি (১৯৯৯), লাল বাদশা (১৯৯৯), গুন্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০), ঝড় (২০০০), কষ্ট (২০০০), ওদের ধর (২০০২), ইতিহাস (২০০২), ভাইয়া (২০০২), হিংসা প্রতিহিংসা (২০০৩), বিগ বস (২০০৩), আজকের সমাজ (২০০৪), মহিলা হোস্টেল (২০০৪), ভন্ড ওঁঝা (২০০৬) ইত্যাদি।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ত্রাস’ ছবিতে অভিনয় করে মিজু আহমেদ সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি মিজু আহমেদ একজন প্রযোজক হিসেবেও ছিলেন সফল। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ফ্রেন্ডস মুভিজ।
জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এফডিসিতে। অভিনয় যার ধ্যানজ্ঞান ছিল, তিনি ভালবাসতেন তার প্রিয় এই জায়গাটিকে। তবে মৃত্যুর পরে সেখানে আবারো এলেন। তবে সাদা কাপড়ে। শেষবারের মতো।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

