বসুন্ধরায় বাস চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত
Posted by: News Desk
March 19, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর বসুন্ধরায় সু-প্রভাত বাসের চাপায় আবরার আহমেদ চৌধুরী নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবরার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবরার বসুন্ধরা এলাকায় থাকতেন। আবরারের লাশ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস সকালে বসুন্ধরা গেট এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়েছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আবরার বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই পরিবহনের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার জন্য বেপরোয়া গতিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন চালক। দুর্ঘটনার পর নিহত ছাত্রের সহপাঠীরা বাসটি আটক করেন। এ সময় চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চালক সিরাজুল ইসলামকে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের সব বাস আটক করে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল করতে থাকেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী লোকজনসহ সব বাসযাত্রী। এ সময় তাদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে আসা গুলশান থানার এসআই মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঘাতক বাসটি আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। চালককেও আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
নিহতের ঘটনায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে অবোরোধ করছে শিক্ষার্থীরা। অবরোধ নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধে বিমানবন্দর থেকে বাড্ডা হয়ে রামপুরা-গুলিস্তান রুটের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, রাধানীর কুড়িল মোড়ে বিমানবন্দর থেকে বাড্ডা হয়ে রামপুরা-গুলিস্তান রুটের যান অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আবার নতুন বাজার মোড় থেকে গুলিস্তান থেকে ছেড়া আসা যান অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে সমর্থন ছিল তার। সেই সমর্থনের কথা জানা যায় আবরারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সড়ক দুর্ঘটনায়ই তার মৃত্যু হলো।
আবরারের ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে দেয়া গেছে, রাজধানীতে নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন চলাকালে আববার সেই আন্দোলনে সমর্থন দেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ওই আন্দোলনে প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে তিনি ফেসবুকে প্রোফাইলে ছবি দেন। ছবির নিচে লেখা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্টিকার দেয়া। গত বছরের ২ আগস্ট ছবিটি পোস্ট করেন আবরার। ওই সময় নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে উত্তাল ছিল সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এর প্রতিবাদে গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর পাশাপাশির সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।
৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রীসভা একটি খসড়া ট্রাফিক আইন অনুমোদন করে, যে আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারো মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়; যদিও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া চালনায় মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। ৮ আগস্টের মধ্যে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
সেই আন্দোলনে সমর্থন ছিল আজকের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আববারের। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিইউপির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আরিফ আহমেদ চৌধুরী।
রাজধানীতে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীতে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে পঞ্চমবারের মতো ট্রাফিক সপ্তাহ।
বাস চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত বসুন্ধরায় 2019-03-19