বিশেষ প্রতিবেদন
আজ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এটি বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের দিন, যখন দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের পথ সুগম হয়। দিবসটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করছে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রথম প্রহরে গণহত্যা শুরু করে। পরবর্তী ৯ মাসে বাংলাদেশে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। জাতি আজ সেই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং দেশবাসীকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে। ২৭ মার্চ অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয়ের পতাকা উড়ে স্বাধীন বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়। স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সব ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের ঐতিহাসিক দিন। তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও নির্যাতিতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রত্যেকের কর্তব্য।
সরকার দিবসটি উদযাপনের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, তোপধ্বনি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবেশ, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিবস উদযাপন করবে।
দেশের বিভিন্ন বন্দর, ঘাট ও পর্যটনকেন্দ্রে নৌযান প্রদর্শন, বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও জাদুঘর দর্শনের সুযোগ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করবে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুষ্ঠিত হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, প্রবেশের জন্য গেট নম্বর ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার অনুরোধ করা হয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

