Don't Miss
Home / অর্থনীতি / বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ, নিয়োগ কাঠামো প্রস্তাবকে নতুন করে সিন্ডিকেটের চেষ্টার দাবি

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ, নিয়োগ কাঠামো প্রস্তাবকে নতুন করে সিন্ডিকেটের চেষ্টার দাবি

বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চলমান প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন একটি প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ কাঠামো প্রস্তাব সামনে আসার পর রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট অভিযোগ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি প্রযুক্তিভিত্তিক মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে ইউআরএফ সলিউশন্স এসডিএন বিএইচডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে “জিরো কস্ট” বা ব্যয়হীন কর্মী প্রেরণ কাঠামো পরিচালনার ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সাবসিডিয়ারি হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে ‘টিইউআরইউপি’ নামের একটি সফটওয়্যার এবং ‘গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার’ নামে একটি একক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়োগ ও কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া পরিচালনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনা চালুর সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস’র (বায়রা) একাংশের নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর আড়ালে সীমিত সংখ্যক (প্রায় ২৫ থেকে ৫০টি) রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়ে একটি “সিন্ডিকেট” গঠনের চেষ্টা চলছে।

তাদের দাবি, এতে অনেক বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি প্রক্রিয়ার বাইরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত হতে পারে।

সংগঠনের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলামসহ একাধিক নেতা বলেন, “জিরো কস্ট” কর্মী প্রেরণ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

প্রস্তাবের পক্ষে থাকা পক্ষগুলোর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম চালু হলে শ্রম নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ হতে পারে। তাদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমলে অভিবাসন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

এছাড়া “এমপ্লয়ার পেইজ প্রিন্সিপল” অনুসারে নিয়োগ ব্যয় নিয়োগকর্তার বহন করার ধারণাকে সামনে রাখা হচ্ছে, যা কর্মীদের জন্য শূন্য-ব্যয় অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও আধুনিকীকরণে একমত হন।

আলোচনায় প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা, দক্ষতা যাচাই, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন এবং তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমিয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা।

সমালোচকদের মতে, কেন্দ্রীভূত বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বাস্তবায়িত হলে সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে এবং প্রতিযোগিতা সীমিত হতে পারে।

অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের দাবি, সঠিক কাঠামো ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এটি বৈশ্বিক শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি আধুনিক মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া, ব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগী ইস্যু নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো সফল হলে তা শ্রম অভিবাসনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে পারে। তবে বাস্তবায়নের আগে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে দুই দেশের চলমান আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের রূপরেখা।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...