বাজার নিয়ন্ত্রণহীন : দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
Posted by: News Desk
March 10, 2019
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের একটি অসাধু অংশের নানা রকম কারসাজি শুরু হয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যসামগ্রীর দাম ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে বাজার। অবিলম্বে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। কারণ বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রোজার সময় অনেক জরুরি খাদ্যপণ্যই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে যে খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা দরে, গত শনিবার তা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। গত শনিবার বাজারভেদে ফার্মের মুরগি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা দরে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। এক সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বেড়ে গেছে ছোলার দামও। তরিতরকারির দামও ঊর্ধ্বমুখী।
ব্যবসায়ীদের অজুহাতের অভাব হয় না। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে কাঁচা মরিচের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লেবু হালিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা, প্রায় একই অবস্থা অন্যান্য সবজিরও। মাসখানেক ধরেই বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি। পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ছোলাসহ বেশির ভাগ পণ্যেরই দাম বেড়ে গেছে।
সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা রকম উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্ধারিত আয়ের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়াটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবছরই বাজারের এই একই চিত্র দেখা যায়। বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও ভাঙা রেকর্ডের মতো একই কথা বলে চলেন।
এবারও বলা হয়েছে, বাজারে খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সব পণ্যেরই পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। টিসিবি থেকে ট্রাকে করে খোলাবাজারে কিছু পণ্য বিক্রির উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু তার প্রভাব কোথায়? বাজারে একবার কোনো জিনিসের দাম বেড়ে গেলে সাধারণত তা আর কমতে চায় না। গুদামে পর্যাপ্ত মজুদের সুফলও তো মানুষ পাচ্ছে না।
অনেকেই মনে করেন, রমজানের কমপক্ষে এক মাস আগেই খোলাবাজারে ব্যাপকভাবে টিসিবির ট্রাকগুলো থেকে পণ্য বিক্রি শুরু হলে বাজারমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি অনেকটাই রোধ করা যেত। ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশেরই ধর্মীয় অনুশাসন বা নৈতিকতার মান খুবই নিম্নস্তরের। তাদের একটাই চিন্তা, মুনাফা এবং আরো বেশি মুনাফা। তাই বাজারকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকতেই হবে। আমরা মনে করি, বাজার নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। -সম্পাদক
রমজান নিয়ন্ত্রণহীন বাজার টাকা 2019-03-10