বাহামায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডোরিয়ানের’ তাণ্ডব, নিহত ৫
Posted by: News Desk
September 3, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে দানবীয় ঘূর্ণিঝড় ‘ডোরিয়ান’ আটলান্টিকের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বাহামায় আঘাত হেনেছে।
আটলান্টিকের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী সামুদ্রিক এ ঝড়ে অ্যাবাকো দ্বীপপুঞ্জে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুবার্ট মিনিস মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
গত রবিবার রাতে আবাকো দ্বীপের এলবো কে এলাকা দিয়ে ডোরিয়ান যখন স্থলভাগে উঠে আসে, তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৯৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হওয়া আকারে ৩৫৪ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এ সময় প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১৮ থেকে ২৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে উপকূল প্লাবিত হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে।
এরপর এটি ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ইতিমধ্যেই ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
প্রলয়ঙ্করী এ হারিকেনের তাণ্ডবে বহু ঘরের ছাদ উড়ে গেছে, জলোচ্ছ্বাস আর প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে অনেক জায়গা। পাঁচ ধাপের সাফির-সিম্পসন উইন্ড স্কেলে ডোরিয়ানকে প্রাণসংহারী পাঁচ ক্যাটাগরির হারিকেন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত ডোরিয়ান হারিকেন হিসেবে থেকে যাবে বলে এনএইচসি জানিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের ১৩ হাজার ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় তলিয়ে গেছে, বন্যার পানি বাড়ছে। গাড়ি উল্টে ও গাছপালা ভেঙে পড়ে আছে। বিভিন্ন বাড়ির ছাদে আতঙ্কগ্রস্ত অনেক পরিবারকে নিরুপায় হয়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবাকোর বাসিন্দাদের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একক পরিবারের জন্য নির্মিত বাড়িগুলোর অর্ধেক পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে এবং সেগুলোর ছাদের কিছু অংশ উড়ে গেছে। পুরো দ্বীপ দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ধাতুর খণ্ড ও ছিন্ন কাঠের টুকরায় ছেয়ে গেছে।
বাহামা দীপপুঞ্জের ৭০০ দ্বীপের অধিকাংশেই বিদ্যুত্ চলে গেছে ও ইন্টারনেটে প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। পূর্বাভাসে সর্বোচ্চ ৭৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়টি ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে আর আকারে বৃদ্ধি পেয়ে কেন্দ্র থেকে ৭৫ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে প্রবল শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে এনএইচসি জানিয়েছে।
বাহামার প্রধানমন্ত্রী হুবার্ট মিনিস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এটি দ্বিতীয় শক্তিশালী আটলান্টিক হারিকেন, যেটি এখনও প্রচণ্ড বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে দেশের জনগণ বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে। কিন্তু আত্মরক্ষার মতো কিছু করার নেই তাদের। আমরা এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির মধ্যে রয়েছি।
খবরে বলা হয়, মৃত্যুর খবর জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী মিন্নিস।
বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী হুবার্ট মিনিস রাষ্ট্রীয়ভাবে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘প্রাণঘাতী ও দানবীয় একটি ঝড়’ দ্বীপগুলোতে তাণ্ডব চালাচ্ছে। দ্বীপগুলোর বাড়িগুলো অন্তত ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝড় মোকাবিলার মতো করে তৈরি করা, কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা বাড়িগুলোর ছাদ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘এটি আগে মোকাবিলা করিনি এমন এক পরীক্ষার মুখে আমাদের ঠেলে দিয়েছে। এটি সম্ভবত বাহামিয়ান জনগণের উদ্দেশে আমার দেওয়া ভাষণের দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুঃখের ও খারাপ দিন,’ বলেছেন মিনিস।
মার্কিন জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র (এনএইচসি) বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি ক্যাটাগরি ৫-এর। স্থানীয় সময় রোববার ১২টা ৪০ মিনিটে ঝড়টি ঘণ্টায় ২৮৫ কিলোমিটার গতিতে বাহামার অ্যাবাকো দ্বীপে আছড়ে পড়েছে।
‘ডোরিয়ান’কে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় বলে ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র।
তবে আগে থেকেই সতর্কাবস্থানে থাকায় স্থানীয় অধিবাসীরা রক্ষা পেয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, ঝড়টির গতিপথে থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। ঝড়ের তীব্র বাতাসের প্রভাবে ২৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
গির্জা, স্কুলসহ বিভিন্ন ভবনে ১৪টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে সরকার। তবে এসব স্থান পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে অনেকেই বাইরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের চারপাশ প্লাবিত হয়ে পড়ায় মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারছেন না।
স্থানীয় কিছু বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও প্রধান বিমানবন্দরটি এখনও চালু রয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
ষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সময় রাত ১১টায় হারিকেনটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূল থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
নিহত ৫ তাণ্ডব বাহামায় ‘ডোরিয়ানের’ ঘূর্ণিঝড় 2019-09-03