এমএনএ খেলাধুলা ডেস্ক : সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইগার্স মুখোমুখি হয় মিনিস্টার ঢাকার। জিতলেই প্লে অফ, এমন সমীকরণ সামনে রেখে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন খুলনার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সিকান্দার রাজার ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেটে ১২৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর সংগ্রহ করে মুশফিকুর রহিমের খুলনা। জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষে ব্যাটিংয়ে নামবে রিয়াদ-তামিমের ঢাকা। গত ম্যাচে হেরে প্লে অফ নিশ্চিতের সুযোগ মিস করা ঢাকা এদিন দল নির্বাচনে দেখায় চমক। দল থেকে বাদ পড়েছেন মাশরাফী বিন মোর্তোজাসহ চারজন। খুলনা দলেও এসেছে পরিবর্তন। বাদ গেছেন বাজে পার্ফরম্যান্স করা কামরুল রাব্বি।
সিলেটে বিপিএলের চতুর্থ পর্বের শেষ দিনে প্লে অফ নিশ্চিত করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে খুলনা। এদিন চারটি পরিবর্তন নিয়ে নামা ঢাকাকে প্রথম ওভারে উইকেট এনে দেন রুবেল হোসেন। গত ম্যাচে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা সৌম্য এদিন ফিরলেন মাত্র এক রান করেই।
রুবেলের করা ওভারের পঞ্চম বলে এগিয়ে এসে বাউন্ডারি ছাড়া করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে শুভাগত হোমের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন সৌম্য।
সৌম্যের পতনের মধ্য দিয়ে যে বিপর্যয়ের সূচনা তা আরও বাড়িয়ে দেয় জাকিরের রান আউট। রুবেলের করা ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ফ্লেচারের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান জাকির। ৫ বলে ৫ রান করেন অফ ফর্মে থাকা এই ব্যাটার।
তবে আরও বড় ধাক্কা বাকি ছিল খুলনার জন্য। বোলিংয়ে এসেই জোড়া আঘাতে খুলনাকে হতবিহ্বল করে দেন ঢাকার স্পিনার আরাফাত সানি। জাতীয় দলের বাহিরে থাকা এই স্পিনার যে ফুরিয়ে যাননি তাই যেন জানান দিলেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে। পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন খুলনার দুই ব্যাটার আন্দ্রে ফ্লেচার ও ইয়াসির আলীকে। দলীয় রান তখন মাত্র ১২!
সানির ওভারের দ্বিতীয় বলটি মাঠছাড়া করতে গিয়ে কভারে মাহমুদুল্লাহের হাতে লোপ্পা ক্যাচ তুলে দেন ফ্লেচার। ১২ বল খেলে মাত্র ৬ রান করেন ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার। ঠিক পরের বলেই সানির আর্ম বল বুঝতে না পেরে বোকা বনে যাওয়া ইয়াসির অবিশ্বাসের চোখে দেখেন উপড়ে যাওয়া লেগ স্ট্যাম্প।
১২ রানে চার উইকেট হারিয়ে কাঁপতে থাকা খুলনার ইনিংসে বাঁধ দিতে চেষ্টা করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মাহেদী হাসান। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে রানের গতি বাড়াতে যেতেই আবারও উইকেট হারায় খুলনা। ঢাকার আফগান রিক্রুট আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের শর্ট লেংথ ডেলিভারিকে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে ইনসাইড এজে নিজের স্ট্যাম্পে টেনে আনেন মুশি। ১২ বলে এক বাউন্ডারিতে ১২ রান করেন খুলনার অধিনায়ক।
সপ্তম ওভারে ৩২ রানে পঞ্চম উইকেট হারালে একশো রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কা জাগে খুলনার। সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন মাহেদি ও সিকান্দার রাজা। ৪.৪ ওভারে ২৬ রান যোগ হতেই ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে খুলনার। কাইস আহমেদের বলে উইকেট কিপার ইম্রানুজ্জামানের হাতে ধরা পড়েন মাহেদি। ১ চার, এক ছয়ে ১৭ রান করেন তিনি।
বিস্মরণযোগ্য ম্যাচে খুলনার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। থিসারা পেরেরাকে সাথে নিয়ে চড়াও হন ঢাকার বোলারদের উপরে। ইনিংসের ১৫ ও ১৬ তম ওভারে তুলে নেন ২৯ রান। মাহমুদুল্লাহের করা ১৫ তম ওভারে ২ ছয়ের মারে তুলেন ১৬ রান। এর ঠিক পরের ওভারে ফজল হকের ওভার থেকে রাজা ও পেরেরা মিলে নেন ১৪ রান।
১৬ ওভারে ৯৭ রান নিয়ে স্ট্রাটেজিক টাইম আউটে যাওয়া খুলনা উইকেট হারায় বিরতির পর প্রথম বলেই। আবার আঘাত হানেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে ফেরান ১২ রান করা পেরেরাকে। ১৭তম ওভারে ১০০ রান পূর্ণ করে খুলনার ইনিংস।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৯ রানে থামে খুলনার ইনিংস। খুলনার পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ বলে ৬৪ রান করে ইনিংসের শেষ বলে ফজল হকের বলে শামসুর রহমানের তালুবন্দি হন সিকান্দার রাজা। জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটারের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছয়ের মার।
ঢাকার পক্ষে আরাফাত সানি ৩ ওভারে একটি মেডেন ওভার সহ ২টি উইকেট নেন ১৫ রান খরচায়। নতুন আফগান রিক্রুট আজমতুল্লাহ ওমরজাইও ২টি উইকেট পান ২৫ রানের বিনিময়ে। এছাড়া কাইস আহমেদ ও রুবেল হোসেন একটি করে উইকেট পান।
জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষে ব্যাটিংয়ে নামবে ঢাকা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

