এমএনএ ইন্টারনাশনাল ডেস্ক : সুইজারল্যান্ডে বিশ্বের দীর্ঘতম ও গভীরতম সুড়ঙ্গ রেলপথ বা টানেল আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন হচ্ছে আজ বুধবার। প্রাথমিকভাবে নকশা প্রণয়নের প্রায় সাত দশক পর এটি চালু হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডে উদ্বোধনের অপেক্ষায় বিশ্বের দীর্ঘতম ও গভীরতম সুড়ঙ্গ রেলপথ বা টানেল—বিবিসি
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের কর্মকর্তাদের গথার্ড বেস টানেলটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির
৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুইজারল্যান্ডের গথার্ড বেস টানেলটি চালুর পর ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে মানুষের যাতায়াতের ধরন পাল্টে যাবে। এ সুড়ঙ্গ রেলপথ দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় উরি প্রদেশের আর্স্টফেল্ড থেকে আল্পস পবর্তমালার নিচ দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় টিসিনো প্রদেশের বোডিওতে গেছে।
এই টানেলের ভেতর দিয়ে দিনে ৩২৫টি যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটি ট্রেন ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার বেগে মাত্র ২০ মিনিটে ওই সুড়ঙ্গপথ অতিক্রম করবে।
এই সুড়ঙ্গ রেলপথের কয়েকটি অংশের অবস্থান আল্পসের চূড়া থেকে সোয়া দুই কিলোমিটার নিচে। গভীরতার হিসাবে এটি বিশ্ব রেকর্ড। এতোদিন বিশ্বের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গপথের রেকর্ডটি ছিল জাপানের সেইকান টানেলের, যার দৈর্ঘ্য গথার্ড বেসের চেয়ে তিন কিলোমিটার কম।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে সুইস প্রকৌশলী কার্ল এদুয়ার্দ গ্রুনে এ টানেলের প্রথম নকশা করেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ১৯৯৯ সালের আগ পর্যন্ত এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পরে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয় ও তা শেষ করতে ১৭ বছর সময় লাগে। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। কাজ করেছেন প্রায় ২ হাজার ৪০০ শ্রমিক।

গথার্ড বেস টানেলটির দৈর্ঘ্য ৫৭ কিলোমিটার—এএফপি
আগামী ডিসেম্বরে পুরোপুরিভাবে এ টানেল চালু হলে জুরিখ থেকে ইতালির উত্তরাঞ্চলের মিলানে যেতে মাত্র ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট সময় লাগবে। এতে প্রায় এক ঘন্টা সময় বেঁচে যাবে।

এই সুড়ঙ্গ রেলপথের কয়েকটি অংশের অবস্থান আল্পসের চূড়া থেকে সোয়া দুই কিলোমিটার গভীর—বিবিসি
সুইস রেলওয়ে বিভাগ বলছে, টানেলটি নির্মাণের ফলে তাদের যাত্রীসংখ্যা প্রতিদিন ৯ হাজার থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ১৫ হাজারে পৌঁছাবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

