Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর ঢাকাঃ মার্কিন সংস্থার গবেষণা
ধীরগতি

বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর ঢাকাঃ মার্কিন সংস্থার গবেষণা

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর। ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। যান চলাচলে এই ধীরগতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। এদিকে, পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই তীব্র যানজটে নাকাল নগরজীবন। প্রথম রোজা থেকে নিয়ে শুক্রবার (১৫ মার্চ) রোজার চতুর্থ দিনেও একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। রমজানে ব্যাপক হলেও যানজটের এই চিত্রই দেখা যায় বছরজুড়ে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহরের তথ্য। তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে, এমন সব শহরে গাড়িতে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে কত সময় লেগেছে, সেই তথ্য গুগল ম্যাপ থেকে সংগ্রহ করে গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে যাতায়াতের তথ্য নেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গবেষণাটি করেছেন ফিনল্যান্ডের আলটো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনব্যবস্থার অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রত্যয় আমান আকবর, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ভিক্টর কুচিও, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের অধ্যাপক গিলেস ডুরানটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম স্টোরিগার্ড।

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি গতির শহর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ফ্লিন্ট শহরের নাম এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গতির ১০০ শহরের মধ্যে ৮৬টিই যুক্তরাষ্ট্রের। প্রতিবেদনে সবচেয়ে দ্রুতগতির যে ২০টি শহরের নাম এসেছে, তার মধ্যে ১৯টি যুক্তরাষ্ট্রের। একটি কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর। সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকায় ঢাকার পরে রয়েছে নাইজেরিয়ার দুই শহর- লাগোস ও ইকোরোদু। এরপরে রয়েছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা।

ধীরগতির শহরের তালিকায় ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের দুই শহর- ময়মনসিংহ (৯ম) ও চট্টগ্রাম (১২তম) রয়েছে। ভারতের কলকাতা, মুম্বাইসহ আটটি শহর রয়েছে এই তালিকায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ধনী দেশগুলোর শহরে গাড়িতে চলাচল দরিদ্র দেশগুলোর তুলনায় ৫০ শতাংশের মতো দ্রুত হয়। এটা সম্ভব হয় ধনী দেশের শহরগুলোতে বড় বড় রাস্তা এবং অনেক ফাঁকা জায়গা থাকার কারণে। এর ফলে রাস্তায় বেশি গাড়ি নেমেও যানজট ছাড়া চলতে পারে। রাস্তায় যানবাহনের চাপ কম থাকার পরেও সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকাও করা হয়েছে গবেষণায়। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। তালিকায় বাংলাদেশের আরও চারটি শহর রয়েছে- খুলনা (৪র্থ), ময়মনসিংহ (৫ম), চট্টগ্রাম (১৮তম) ও কুমিল্লা (১৯তম)।

গবেষকেরা দেখেছেন, ৩৮টি ধনী দেশের জোট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্যদেশগুলোর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে গাড়ি ও মানুষের গতি বেশি। ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির গতি গড়ে ২৭ শতাংশ বেশি। আবার দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের শহরে গতি কম। অন্যান্য দরিদ্র দেশের তুলনায় বাংলাদেশে গতি কম গড়ে ২০ শতাংশ। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন গবেষকেরা। তারা দেখেছেন, ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর পার্থক্য অনেক বেশি। ওই সব ধনী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর জনসংখ্যা ২৪ শতাংশ কম, শহরগুলো প্রায় ৭২ শতাংশ বড়। যুক্তরাষ্ট্রের শহরে বড় বড় রাস্তা বেশি ৬৭ শতাংশ। একইভাবে বাংলাদেশের শহরে (একই আয়তনের) অন্যান্য দেশের শহরের তুলনায় জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ বেশি এবং বড় রাস্তা ৪২ শতাংশ কম। এ কারণে বাংলাদেশের শহরগুলো ধীরগতির।

গবেষকেরা বলছেন, তিনটি কারণে তাদের এই অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সারা বিশ্বে নগর যাতায়াত নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই গবেষণার ফলাফল নীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। নাগরিক গতির একটি নির্ধারক বড় রাস্তা। বড় রাস্তা ভিড় কমায় বিষয়টি এমন নয়, বরং বড় রাস্তা গতি বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, শহরে বহু মানুষ কর্মক্ষেত্র, স্কুল ও বিনোদনকেন্দ্রের হাঁটার দূরত্বে বসবাস করে না। তারা দ্রুতগতির এবং বিশ্বস্ত যাতায়াতব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে চায়। আধুনিক মহানগরের প্রয়োজনীয় শর্ত হচ্ছে দ্রুতগতির যান্ত্রিক যান। জটিল উৎপাদন নেটওয়ার্ক ও বিচিত্র ভোগের বর্তমান শহরে হেঁটে যাতায়াতের চিন্তা মধ্যযুগীয়। তৃতীয়ত, পরিবার ও সরকার প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করে নগর যাতায়াতের ক্ষেত্রে। কিন্তু একটি শহর ভ্রমণ বা চলাফেরার জন্য কতটা সুন্দর, তা কমই জানা থাকে। নগর–পরিকল্পনাবিদেরা খুব কমই জানেন যে একই ধরনের শহরের তুলনায় তাদের শহরটি কতটা পিছিয়ে বা কেন পিছিয়ে।

চট্টগ্রামে গত এক দশকে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে ১২ হাজার কোটি টাকায় অন্তত ২৩টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও যানজট না কমে বেড়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে যানজট লেগে থাকে। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি ও সড়ক পরিবহনবিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যানজটের মূল কারণ চিহ্নিত না করে শুধু সড়ক সম্প্রসারণ, উড়ালসড়ক ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করলে যানজট দূর হবে না। নগরের যানজট নিরসন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা না করে ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও এর জন্য যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দরকার ছিল, তাতে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্প্রতি তাদের এক জরিপ প্রতিবেদনে জানায়, ঢাকাবাসীকে সড়কে প্রতি ২ ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট কাটাতে হয় যানজটে বসে। বছরে জনপ্রতি গড়ে ২৭৬ ঘণ্টা নষ্ট হয় যানজটে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মানুষের চলাচল একটি জরুরি বিষয়। শহর গড়ে উঠেছে এ কারণে যে অল্প জায়গায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের সুবিধা থাকবে। মানুষ দ্রুত চলাচল করে সেই সুবিধা নিতে পারবে।

রমজানের শুরুতেও ব্যাপক যানজট, নাকাল নগরজীবন: শেষ বিকেলে সড়কে দীর্ঘ যানজট, ঠাঁই নেই মেট্রোতেও যানজটের কারণে গত বুধবার দ্বিতীয় রমজানের শেষ বিকালে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরে ফেরা মানুষ। রাস্তায় গাড়ির সারিতে দীর্ঘ যানজট দেখে অনেকেই মেট্রোতে করে যাওয়ার চেষ্টা করেও ঠাঁই পাননি। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

x

Check Also

শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের ভাবনা, ২১ তলা নতুন ভবন প্রকল্প ফেরত দিল একনেক

বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানীর আব্দুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয়ের তীব্র জায়গা সংকট ও ক্রমবর্ধমান ...