Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ব্যাংক পরিচালনায় সুযোগ বাড়াল সরকার

ব্যাংক পরিচালনায় সুযোগ বাড়াল সরকার

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালকদের টানা তিন মেয়াদে নয় বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ এবং একই পরিবারের চারজনকে পরিচালক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনটি সংশোধনের অনুমোদন করেছে সরকার।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন ২০১৭-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ব্রিফিংয়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য জানান।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালকরা তিন বছর করে দুই মেয়াদে টানা ছয় বছর পরিচালক থাকতে পারেন। দুই মেয়াদ শেষে তিন বছর বিরতি দিয়ে আবারও তিন বছরের জন্য পরিচালক হতে পারেন।

এটাতে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক একনাগারে নয় বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। তিন বছর গ্যাপ দিয়ে আবার নয় বছর থাকতে পারবেন।

তিন বছর গ্যাপ দিয়ে দিয়ে নয় বছর করে কারও আমৃত্যু ব্যাংক পরিচালক থাকতে আইনে কোনো বাধা নেই বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ব্যাংক পরিচালকদের সুযোগ বাড়িয়ে আইন সংশোধন করতে ব্যাংকারদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, কোনো ব্যাংকে একই সময়ে একই পরিবারের দুইজনের বেশি সদস্য পরিচালক পদে থাকতে পারতেন না। ওই ধারা সংশোধন করে একই পরিবার থেকে চারজন পরিচালক করার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

একই পরিবার অর্থায়ন করে, ইনভেস্টমেন্টও তারাই করে। পারিবারিকভাবে ইনভেস্ট করেন এজন্য তাদের এফিলিয়েশন বা মায়া থাকে। ব্যাংক মালিকদের দাবি ছিল, যারা প্রতিষ্ঠাকালে পরিচালক হিসেবে ইনভেস্ট করেন তাদের পরে কিছু বলার থাকে না। অন্য লোকজন এসে মাঝখানে কিছু নিয়ে চলে যায়। যারা ফাউন্ডিং ডাইরেক্টরস, তাদের যেন একটা রোল থাকে।

শফিউল আলম জানান, এতদিন বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোকে পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনয়নের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হত।

প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচন বা মনোনয়নের পর তার তাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

পরিচালক পদে সরকার কাউকে মনোনয়ন দিলে তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কাউকে নির্বাচিত বা মনোনীত করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদন না দিলে তার নিয়োগ হবে না বলে জানান শফিউল আলম।

১৯৯১ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস হওয়ার পর থেকে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালকদের মেয়াদ সম্পর্কিত ধারাটি পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ধারাটি সংশোধন করা হয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইনে তিনটি ধারার পরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংকও সম্মতি দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সবাই সম্মতি দিয়েছে, ভালো হবে বলেই ভেবেছে সবাই, সেজন্যই সম্মতি দিয়েছে। স্টেকহোল্ডার যারা আছেন সবাই এর সঙ্গে একমত হয়েছেন।

একই পরিবার থেকে কোনো ব্যাংকে চারজন পরিচালক থাকলে ‘ভালো-মন্দ দুটোই হতে পারে’ মন্তব্য করে শফিউল বলেন, ভালো মানুষরা হ্যান্ডেল করলে ভালো হবে।

আজকের মন্ত্রিসভায় বিনিয়োগকারী বা উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা রেখে আরেকটি আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ওয়ানস্টপ সার্ভিস আইন ২০১৭-এর খসড়া অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা একই জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা পাবেন। এই সেবার নাম হবে ‘কেন্দ্রীয় ওয়ানস্টপ সার্ভিস’। এই ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স, ভিসা, নাম ছাড়পত্রসহ মোটাদাগে ১৬টি সেবা মিলবে।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...