Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ভারতের বিপক্ষেও দাপট দেখাতে চায় বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষেও দাপট দেখাতে চায় বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ডময় জয়ে হারানো ছন্দ বেশ দাপটের সঙ্গেই পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ। একই ধারাবাহিকতায় আজ ভারতের বিপক্ষেও দাপট দেখাতে চায় বাংলাদেশ।
তবে ছন্দ ফিরে পাওয়া টাইগারদের আজকের ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত কিছু করে দেখানোটা বেশ কঠিনই হবে।
কারণ ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতের দুটি জয়েই ম্যাচ-সেরা দুই পেসার। ভালো করছেন আরেক পেসারও। বোলিংটা দারুণ হচ্ছে ভারতের দুই স্পিনারেরও। ম্যাচ জিততে হলে ভারতের এই বৈচিত্রময় বোলিং আক্রমণ সামলাতে হবে, অনুভব করছেন মাহমুদউল্লাহ।
দুই দলের প্রথম লড়াইয়ের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল ভারতীয় বোলিংই। বোলিং দিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর। বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনাদকাট উইকেট নিয়েছিলেন তিনটি। কিপটে বোলিংয়ে এক উইকেট ছিল আরেক পেসার শার্দুল ঠাকুরের।
সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের জয়ের ভিতও গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররাই। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা শার্দুল। অন্য দুই পেসারও নেন একটি করে উইকেট।
স্পিনে নিজেদের কাজটা করছেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও যুজবেন্দ্র চেহেল। ১৮ বছর বয়সী অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার সুন্দর নতুন বল হাতে আটকে রাখছেন রান। পাশাপাশি উইকেটও নিয়েছেন চারটি। লেগ স্পিনার চেহেল তো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন।
ভারতের ৫ বোলারই নজর কেড়েছেন বৈচিত্রময় বোলিংয়ে। বিশেষ করে গতির হেরফেরে। স্পিনাররা যেমন ব্যাটসম্যানদের ভোগাচ্ছেন গতি বৈচিত্রে; উনাদকাটের কাটার ও শার্দুলের ‘নাকল বল’ বিভ্রান্তিতে ফেলছে ব্যাটসম্যানদের।
প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে কেবল ১৩৯ রান তুলতে পেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তাই মাহমুদউল্লাহর ভাবনা ভারতের বোলিং সামলানো নিয়ে।
পক্ষান্তরে বাংলাদেশ অধিনায়ক খুব অখুশি নন বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্সেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খরুচে বোলিংকে অস্বীকার করছেন না। তবে এখনই আঙুল তুলতে চান না। মনে করিয়ে লেন প্রথম ম্যাচের কথা। আশাবাদ জানালেন ভালো কিছুর।
প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারলেও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। মুশফিকুর রহিমের ৩৫ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংসে ২১৫ রানের পর্বতপ্রমাণ লক্ষ্যও টপকে গেছে অবলীলায়।
শুধু মুশফিকই কেন? ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের ২৯ বলে ৪৭ ও লিটন দাসের ১৯ বলে ৪৩ রানের বিষ্ফোরক ইনিংসও ঐতিহাসিক এই জয়ের জ্বালানি যুগিয়েছে।
এই যখন দলের অবস্থা তখন অবচেতন মনে একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছে, পারবে তো টাইগাররা? শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওমন দাপুটে জয়ের ধারাবাহিকতা রোহিত শর্মাদের বিপক্ষেও ধরে রেখে টুর্নামেন্টের ফাইনালের পথ মসৃণ করতে? ঐতিহাসিক কিংবা রেকর্ডময় না হোক। জয় হলেই হবে।
সেই লক্ষ্য নিয়েই হয়তো বুধবার (১৪ মার্চ) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভারতকে মোকাবিলা করবে টাইগাররা।
কী হবে এই জয়ে? ফাইনালে চলে যাবে টাইগাররা? না, তেমন মনে করার কোন কারণ নেই। কেননা জয় ও হারের হিসেব কষতে গেলে লাল-সবুজকে সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৬ মার্চ নিজেদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ওই ম্যাচে স্বাগতিকরা জিতে গেলে তিন দলের পয়েন্টই সমান হবে (৪)। তখন আসবে রান রেটের হিসেব। সেখানে যারা শ্রেয়তর রান রেটে থাকবে তারাই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে।
তাই আপাতত ভারত বধই মামুদউল্লাহদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিন্তু কাজটি কতটা সহজ হবে সেটাই এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
কেননা, নিজেদের শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের হেসে খেলেই হারিয়ে দিয়েছে ভারত। ১৫৩ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য টপকে গেছে ৪ উইকেটে খরচায়। হাতে ছিল আরও ১৫টি বল।
ঠিক এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে তাই হিসেবি এবং অলআউট ক্রিকেট খেলার কোনো ব্যতিক্রমই নেই। হিসেবি হবেন কারা? অবশ্যই বোলাররা। সেদিনের ম্যাচের মতো তাসকিন, মোস্তাফিজ, রুবেলদের রানের হাফ সেঞ্চুরি করলে চলবে না। যতটুকু কিপটে হওয়া সম্ভব, হতে হবে ঠিক ততটুকুই।
আর অলআউট খেলতে হবে ব্যাটসম্যানদের। তাদের কোনভাবেই ভুলে গেলে চলবে না, ভাগ্য সাহসীদের পক্ষেই থাকে। তাই বলে যা খেলার নয় তাও খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে নয়। বল যাচাই করে শট সিলেকশনে হতে হবে নিখুঁত।
দু’বার করে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার পর নির্ধারিত হবে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের দুই ফাইনালিস্ট। তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে টিম ইন্ডিয়া। সমান ম্যাচে এক জয় ও দুই হারে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঙ্কানদের সংগ্রহ ২। সমান ২ পয়েন্টে রান রেটে পিছিয়ে এক ম্যাচ কম খেলা বাংলাদেশ। তিন দলের নেট রান রেট যথাক্রমে ০.২১০, -০.০৭২, -০.২৩১।
উল্লেখ্য, বিমান দুর্ঘটনার খবরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের পরিবারেও শোকের পাশাপাশি নেমে এসেছে অজানা ভয়। বলতে গেলে সারা বছরই দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারকেই বিমানে পাড়ি দিতে হয় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ। যেতে হয় এদেশ থেকে ও দেশে। তাই নেপালের দুর্ঘটনা তাদের মনে ভীতি সঞ্চার না করে যায় না।
নেপালে প্লেন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আজ বুধবার কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিদাহাস ট্রফিতে আগামীকাল ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
গতকাল মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে কালো ব্যাজ পড়ে মাঠে নামার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা প্লেন বিধ্বস্তে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা।
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ফেসবুকে স্ট্যাটাসে নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের দলের পক্ষে বর্তমান দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ দল আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কালো ব্যাজ পরে নামবে। তিনি বলেন, ‘খরবটা কালই আমরা শুনেছি, খুবই মর্মাহত হয়েছি। বিমানে বাংলাদেশের ৩৫ থেকে ৪০ জনের মতো ছিলেন বলে জেনেছি। তারা কারও না কারও খুব কাছের মানুষ। তাদের পরিবার ও স্বজনকে সমবেদনা জানাই। সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁর পরিবার পরিজনের এই শোক বইবার ক্ষমতা দেন, এ দোয়া করি।’
গত সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পার্বত্য শহর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ আরোহী ছিলেন। এতে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৮ আরোহীকে।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...