ভারতে জাকির নায়েকের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
Posted by: News Desk
January 20, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতে ইসলামিক বক্তা জাকির নায়েকের ফের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থপাচার মামলায় মুম্বাই ও পুনেতে ১৬ কোটি ৪ লাখ কোটি রুপির চারটি ফ্ল্যাটের ওপর আদালত কর্তৃক ক্রোক নির্দেশ দেওয়া হয়।
অর্থ পাচার মামলায় এ নিয়ে তৃতীয় দফায় জাকির নায়েকের সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ এল। নতুন এ স্থাবর সম্পত্তিসহ সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির ওপর ক্রোক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গতকাল শনিবার ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) জানায়, অর্থ পাচার আইনে তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুম্বাইয়ের ফাতিমা হাইটস, আফিয়া হাইটস-সহ ভান্ডুপ এলাকায় একটি বেনামী প্রজেক্টে জাকিরের আত্মীয়দের বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানতে পারেন ইডির তদন্তকারীরা। পুনেতে এনগ্রাসিয়া নামের একটি প্রজেক্টের সঙ্গেও তারা যুক্ত, বলছে ইডি।
তদন্তকারীরাদের দাবি, প্রথমে অর্থ লেনদেন করা হত জাকিরের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। কিন্তু পরে তদন্ত শুরু হতেই সেই অর্থ জমা করা হয় জাকিরের স্ত্রী, ছেলে, ভাগ্নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। মূলত তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিতে এই প্রচেষ্টা করা হয়।
২০১৬ সালে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যক্রমের অভিযোগ করা হয়, অন্য ধর্ম নিয়ে তার ‘উত্তেজনাকর বক্তব্য’ মানুষকে জঙ্গি সংগঠনে অনুপ্রাণিত করছে। এছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ আসছে এমন অভিযোগও করা হয়।
এ নিয়ে ভারতীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি রুপির মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করে।
এতে বলা হয়, বিভিন্ন অজানা ও সন্দেহজনক উৎস থেকে দুবাই অ্যাকাউন্টে এসব অর্থ আসে। যেগুলো ভারত থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও উগ্রপন্থাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) ও পিস টিভি।
ভারতের ইউএপিএ আইনে ২০১৬-তে জাকিরের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৭-র অক্টোবরে মুম্বাইয়ের একটি আদালতে জাকির ও অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দায়ের করে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ।
আদালতে তদন্তকারীরা বলেন, ‘ইসলাম ধর্মের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে উগ্রবাদ ছড়াতেন জাকির। ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর ভাষণ দিত সে৷ এমনকী, তার সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও পিস টিভি, এ ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল।’
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি শনাক্ত করার জন্য ভারতীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চিঠির কোনো সাড়া মেলেনি।
এসব কারণে ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভারত ছেড়ে যেতে বাধ্য হন জাকির নায়েক। ভারতে মামলা হওয়ার পর জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় আশ্রয় চান। সেসময় তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় তৎকালীন নাজিব রাজাক সরকার। এরপর থেকে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া শহরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামিক বক্তব্য রাখছেন।
২০০৬ সালে জাকির নায়েক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পিস টিভি। বিশ্বজুড়ে তাদের ২০ কোটি দর্শকসংখ্যা রয়েছে বলে পিস টিভি জানায়।
নির্দেশ ভারতে সম্পত্তি জাকির নায়েকের ক্রোকের 2019-01-20