Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’, ইসরায়েল–ইরানে হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’, ইসরায়েল–ইরানে হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল–ইরান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া শর্ত মানার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমাকে ‘চূড়ান্ত’ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে, তবে সেটি “যথেষ্ট নয়”। তার ভাষায়, “তারা যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, তাহলে খুব দ্রুতই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।”

তিনি দাবি করেন, ইরান আলোচনায় সদিচ্ছা দেখালেও তাদের আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে “অনেক বিকল্প” রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে ট্রাম্প পূর্বেও সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, তবে তা কয়েকবার পিছিয়ে দেন। এবার তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মঙ্গলবারের সময়সীমাই চূড়ান্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি বন্ধ বা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল ইরানের আসালুয়েহ অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি ছিল একটি “কৌশলগত ও শক্তিশালী আঘাত”। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাফ সোশানী জানান, আলোচনা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, এই গ্যাসক্ষেত্রটি ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন এবং ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের একটি বড় অংশ এখান থেকে আসে।

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান রাজধানী তেহরানে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এলাকায় হামলার পর আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

ইসরায়েল দাবি করেছে, এসব হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদমিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরির মৃত্যুর দাবিও করা হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হেনে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

পরবর্তী হামলাগুলোতে গুচ্ছবোমা (ক্লাস্টার ওয়ারহেড) ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বহু স্থানে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডাম জানায়, বিভিন্ন হামলায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বহু মানুষকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ইরান ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলেও নতুন করে গুচ্ছবোমা হামলা চালিয়েছে। এতে ১৫–২০টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পেটাহ তিকভা এলাকায় এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ক্রমাগত হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, সাইরেন বাজলে দ্রুত আশ্রয় নেওয়া জরুরি।

সংঘাত শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরান কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে তা প্রতিহত করে।

ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

ট্রাম্প ইরানের তেল সম্পদ নিয়ে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ওপর ছেড়ে দিলে আমি সব তেল দখল করে নিতাম।” এছাড়া তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে “ধ্বংস করে দিচ্ছে” এবং চাইলে আরও বড় আঘাত হানতে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও ট্রাম্প এ বিষয়ে সমালোচনাকারীদের “নির্বোধ” বলে মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা হামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক নিরাপত্তা—সবকিছুই এখন ঝুঁকির মুখে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা থাকলেও, দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে—যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

x

Check Also

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে দেশে ...