আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যনগরী দুবাই চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে শহরটির বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে দেশত্যাগে আগ্রহী ধনকুবের, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিদেশি পর্যটকদের অনেকেই এখন প্রাইভেট জেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
বিমান চলাচলে বিঘ্ন ও বিকল্প রুটের সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে। মাসকাটভিত্তিক প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান জেটভিপ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, ‘নেক্সট্যান্ট’ নামের ছোট জেটে করে ইস্তাম্বুল যেতে এখন খরচ পড়ছে প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো—স্বাভাবিক সময়ের প্রায় তিন গুণ।
অস্ট্রিয়াভিত্তিক চার্টার কোম্পানি আলবাজেট জানিয়েছে, বিমা–সংক্রান্ত জটিলতা ও অপারেটরদের অনীহার কারণে উড়োজাহাজের জোগান সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ইউরোপগামী ফ্লাইটের ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো।
ভিমানা প্রাইভেট জেটসের প্রধান নির্বাহী আমির ন্যারান বলেন, রিয়াদ থেকে ইউরোপে ফ্লাইটের ভাড়া সাড়ে তিন লাখ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
দুবাই থেকে অনেকে সড়কপথে ওমানে যাচ্ছেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছাচ্ছেন মাসকাটে, যেখানে বিমানবন্দর এখনো সচল রয়েছে, যদিও ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। অনলাইন বুকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাসকাট থেকে ইউরোপগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, অনেক যাত্রী প্রায় ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে যাচ্ছেন, কারণ সেখানকার বিমানবন্দর কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে।

সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তাদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইতালিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেটো সরকারি উড়োজাহাজে করে দুবাই থেকে ইতালিতে ফিরে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, শত শত ইতালীয় নাগরিক যখন সেখানে আটকে, তখন মন্ত্রীর একক প্রত্যাবর্তন কতটা নৈতিক ছিল।
দুবাই পর্যটন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় হোটেলগুলোকে আটকে পড়া পর্যটকদের উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কিছু বিদেশি পর্যটক অতিরিক্ত ভাড়া দাবির অভিযোগ তুলেছেন।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কয়েকটি বড় প্রমোদতরি সমুদ্রে নোঙর করে আছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড জানিয়েছে, ‘মেইন শিফ–৪’সহ কয়েকটি জাহাজের যাত্রীরা জাহাজেই অবস্থান করছেন; নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কেবিনে থাকতে বলা হয়েছে।
দুবাইভিত্তিক আইনজীবী ইরিনা হিভার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, শহরটির বাসিন্দা ও প্রবাসীরা এখন তিন ভাগে বিভক্ত—একদল দ্রুত সীমান্তের দিকে ছুটছে, আরেকদল পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ধরে দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যাচ্ছে, আর তৃতীয় দল সরকারি আশ্রয়–সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দুবাইয়ের বিলাসী জীবনযাত্রায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। আকাশপথের অনিশ্চয়তা, চড়া ভাড়া ও নিরাপত্তা শঙ্কা মিলিয়ে নগরীটি এখন গভীর উৎকণ্ঠার আবহে আবদ্ধ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

