Don't Miss
Home / সারাদেশ / মহিউদ্দিনের কুলখানিতে প্রাণহানির সূত্রপাত যেভাবে

মহিউদ্দিনের কুলখানিতে প্রাণহানির সূত্রপাত যেভাবে

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : শত শত মানুষ হুড়াহুড়ি করে একসঙ্গে প্রবেশ করতে যাওয়ার কারণেই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের রীমা কমিউনিটি সেন্টারের এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের গেট খুলে দেয়ার পর শত শত মানুষ হুড়াহুড়ি করে ঢুকতে চেষ্টা করেন।
রাস্তা থেকে কমিউনিটি সেন্টারের গেটটি ঢালু হওয়াতে সামনের দিকের লোকজন মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা লোকজন তাদের পদদলিত করে সামনে এগোনোর চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অনুপ দাস নামে এক তরুণ।
তিনি বলেন, ফটকের বাইরে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। ঢোকার সময় পেছনের চাপে সামনে ওই ঢালু জায়গায় থাকা বেশ কয়েকজন পড়ে যান। তখন তাদের ওপর দিয়েই পেছনের লোকজন হুড়মুড় করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে অনেক মানুষ হতাহত হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, অনেকে পড়ে গেছেন, মানুষের ভিড়ের কারণে অনেকে পদদলিত হয়েছেন।
তবে বিষয়টি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, এটা মারামারি বা গ্রুপিং বা অন্য কোনো বিষয় না। নিরাপত্তার অভাব হয়নি, অতিরিক্ত মানুষের কারণে এবং ঢোকার সময় হুড়াহুড়ির কারণে অনেকে পড়ে গিয়ে পদদলিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। মৃত্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
নিজ বাসায় মৃদু হার্ট অ্যাটাক ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গত ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর একদিন পর মহিউদ্দিনকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ১৬ নভেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরের অ্যাপোলো গ্লিনিগ্যালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এএনজিওগ্রাম করে হার্টের দুটি ব্লকে রিং বসানো হয়। ডায়ালিসিসের জন্য কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি করা হয় হাতে।
এদিকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর তিন দিন কেটে গেলেও এখনও শোক কাটেনি। মানুষের মুখে-মুখে তার গুণগান। উঠে আসছে জানান-অজানা নানা বৈশিষ্ট্যের কথা। চশমাহিল এলাকা ও দোস্ত বিল্ডিংয়ে দলীয় কার্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছেয়ে গেছে সাদা-কালো ব্যানার-পোস্টারে। শত শত মানুষ ভিড় করছেন তার কবরে।
১৯৯৪ সাল থেকে টানা তিনবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। জনপ্রিয় এই সাবেক মেয়রের বাড়ি চট্টগ্রামের ষোলো শহরে। তাঁর বাসার গলিটি চট্টগ্রামবাসীর কাছে ‘মেয়রের গলি’ হিসেবে পরিচিত।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...