মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন মারা গেছেন
Posted by: News Desk
August 26, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাককেইন মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
ম্যাককেইনের কার্যালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে আজ রবিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিবেষ্ঠিত অবস্থায় জন ম্যাককেইন মারা যান।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে অ্যারিজোনার সিনেটরের দায়িত্ব পালন করা ম্যাককেইন ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী। বর্তমান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন বড় সমালোচক ছিলেন তিনি।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক এই সদস্য রিপাবলিকান পার্টি থেকে ২০০৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে বারাক ওবামার কাছে হেরে যান তিনি। ম্যাককেইন অ্যারিজোনা থেকে ছয়বার সিনেটর নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে ম্যাককেইনের মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ম্যাককেইন। তবে গত শুক্রবার তিনি তার চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
টুইটারে এক বিবৃতিতে ম্যাককেইনের মেয়ে মেগান বলেন, “বাবাকে ছাড়া আগামী আমার দিনগুলো একরকম থাকবে না। তবে তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখেছে গেছেন, তাতে সেই দিনগুলো হবে ভালোবাসায় পূর্ণ।”
জন ম্যাককেইনের বাবা আর দাদা দু’জনেই মার্কিন নৌবাহিনীর চার তারকা অ্যাডমিরাল ছিলেন। দাদা ও বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তিনি নৌবাহিনীর ফাইটার প্লেনের পাইলট হিসেবে অংশ নেন। তবে যুদ্ধের সময় তার বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হলে তিনি ধরে পড়ে যান এবং ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সেখানেই কারাবন্দি ছিলেন। এ সময়টাতে তিনি বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন, যা তার শারীরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
গত বছরের জুলাইয়ে তা বাম চোখের ওপরে জমে যাওয়া রক্ত অপসারণে অস্ত্রোপচার করার সময়েই তার মস্তিষ্কে টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। তবে গত শুক্রবার চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর গতকাল শনিবারই তার মৃত্যু হলো।
ম্যাককেইনের বাবা আর দাদা দুজনেই ছিলেন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল। আর ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ম্যাককেইন নিজে ছিলেন একজন ফাইটার পাইলট।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ধরা পড়লে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় যুদ্ধবন্দি হিসেবে কারাগারে কাটাতে হয়েছিল ম্যাককেইনকে। সে সময় তিনি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছিলেন।
তার মৃত্যুর খবরে শোক জানিয়ে অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। ম্যাককেইন যার কড়া সমালোচক ছিলেন, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে প্রয়াত এই সিনটরের পরিবারের জন্য সমবেদনা ও শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন।
২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন সারাহ পালিন।
টুইটারে ম্যাককেইনের সঙ্গে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে সারাহ পালিন তাকে বর্ণনা করেছেন একজন বন্ধু হিসেবে। লিখেছেন, বিশ্ব একজন ‘আসল আমেরিকানকে’ হারালো।
সেই নির্বাচনে ম্যাককেইনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা।
এক শোকবার্তায় সাবেক এই প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, সকল রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরও সেই আদর্শের জায়গায় তারা দুজনেই একমত ছিলেন, যে আদর্শের জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমেরিকানরা ‘লড়াই করেছে, আত্মোৎসর্গ করেছে’।
বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে থেকেও ম্যাককেইনের দীর্ঘ দিনের বন্ধু ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
এক শোকবার্তায় তিনি লিখেছেন আমেরিকার ওপর ম্যাককেইনের প্রভাব শেষ হয়ে যায়নি।
“কোনো কোনো সত্য চিরকালীন, জন ম্যাককেইনের জীবনই তার প্রমাণ। চারিত্রিক দৃঢ়তা, সাহস আর সততা… এই সত্যগুলো যে জীবন কাটিয়েছে, তার প্রভাব থেকে যায় বহুদিন। জন ম্যাককেইনের প্রভাবও অনেক দিন থাকবে।”
ম্যাককেইনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, জন ম্যাককেইনের পরিবারের জন্য গভীর সহানুভূতি ও সম্মান জানাচ্ছি। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
মার্কিন মারা সিনেটর জন ম্যাককেইন 2018-08-26