Don't Miss
Home / অর্থনীতি / মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের বিচার ও উন্মুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি
Untitled design - 1

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের বিচার ও উন্মুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি

এমএনএ প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অতীতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার এবং সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করার দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বায়রার ভুক্তভোগী সদস্যরা।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বায়রা সদস্যদের পক্ষে দলিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াজ-উল-ইসলাম; সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম. এ. সালাম, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু এবং মফিজ উদ্দিন; সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য হক জাহিরুল জো এবং এনামুল হক; এবং সদস্য কাজী শাখাওয়াত হোসেন লিন্টু, আলতাব খান, মাহবুবুল করিম সিদ্দিকী জাফর।

এতে জনশক্তি রপ্তানি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বলা হয়, এই খাত থেকেই দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সাবেক সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর যোগসাজশে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এর ফলে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইএলও ,আইওএম এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে ১০টি এবং ২০২২ সালে প্রথমে ২৫টি, পরে প্রায় ১০০টি এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করে সিন্ডিকেট গঠন করা হয়।

সর্বশেষ ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে সংঘটিত সিন্ডিকেটের মূলহোতারা- দাতোশ্রী আমিন বিন আবদুন নুর, (এফডব্লিউসিএমএস-এর মালিক), রুহুল আমিন স্বপন (বায়রার সাবেক মহাসচিব), লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (সাবেক এমপি), সালমান এফ রহমান (সাবেক উপদেষ্টা), এএইচএম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল (সাবেক অর্থমন্ত্রী), নিজাম উদ্দিন হাজারী (সাবেক এমপি), বেনজীর আহমদ (সাবেক এমপি), আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম (সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পি.এস), মহিউদ্দিন মহি (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ), কাজী মফিজুর রহমান (সাবেক বায়রা ইসি সদস্য), মনসুর আহমেদ কালাম, (আওয়ামী লীগ নেতা), ও শফিকুল আলম ফিরোজসহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মীপ্রতি অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা আদায় করা হয়, ফলে একজন শ্রমিককে মালয়েশিয়া যেতে মোট ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। দুই দফায় প্রায় ৮ লাখ কর্মীর কাছ থেকে আনুমানিক ১২ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সিন্ডিকেটের কারণে প্রায় ২,৫০০ অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির অধিকাংশই বৈষম্যের শিকার হয়েছে এবং শ্রমবাজার কয়েকজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে অনেক নিয়োগকর্তা বিনা খরচে কর্মী নিতে চাইলেও উচ্চ ফি’র কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রায় ৫০ হাজার কর্মী সময়মতো মালয়েশিয়া যেতে পারেননি বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সিন্ডিকেটভুক্তির জন্য এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে ৫ থেকে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে একই চক্র নতুন করে আরও বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, মালয়েশিয়ার অনলাইন রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) অপব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই পদ্ধতি বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে ১০টি শর্তযুক্ত নতুন লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকেও অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়। তাদের মতে, এসব শর্ত বাস্তবসম্মত নয় এবং আবারও সিন্ডিকেট তৈরির পথ তৈরি করছে।

ভুক্তভোগীরা সিন্ডিকেটমুক্ত উন্মুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এতে কর্মীদের বিদেশগমন ব্যয় কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অধিক সংখ্যক কর্মী স্বল্প সময়ে বিদেশ যেতে পারবে। পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি উন্নত হবে এবং দুর্নীতি ও অর্থ পাচার কমবে।

স্মারকলিপিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধন, স্বচ্ছ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন বাধ্যতামূলক করা এবং প্রয়োজনে সরকারি সংস্থা BOESL-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা চালু করা।

তারা আরও দাবি জানান, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন বায়রার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াজ-উল-ইসলামসহ ভুক্তভোগী সদস্যরা।

ভুক্তভোগীদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে অন্য দেশের মতো স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে পরিচালনা করা গেলে দেশের লাখো শ্রমিক উপকৃত হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

x

Check Also

টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কারের কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে: রিজভী

এমএনএ প্রতিবেদক বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, টিকাবিরোধী ...