Don't Miss
Home / আইন আদালত / মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

এমএনএ রিপোর্ট : বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পাওয়া রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ রবিবার বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুফিয়া খাতুন এ আবেদন করেন।

আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আজ (রবিবার) আবেদন করেছে। আগামীকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে মিন্নির জামিন স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

গত ২৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই শর্তে মিন্নিকে জামিন দেন।

হাইকোর্ট মিন্নিকে জামিন দেয়ার পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী আপিল করার কথা বলেছিলেন।

আজ রবিবার এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাপ্পী বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে আমি অ্যাটর্নি অফিসকে নোট দিয়েছি। অফিস সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ রবিবার সন্ধ্যায় মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের কোনো কপি এখনো পাইনি।

এর আগে আজ রবিবারই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত মিন্নিকে দেয়া জামিনের ৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

গত ২৯ আগস্ট দুই শর্তে মিন্নিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। দুই শর্ত হল- ১. জামিনে থাকাবস্থায় মিন্নি তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় থাকবেন; ২. জামিনে থাকাবস্থায় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এই দুই শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে মিন্নির জামিন বাতিল হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গত ২ জুলাই এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

এই মামলায় ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইন্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

পরদিন মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে ওই আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

তার আগের দিনই পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মিন্নি হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হত্যা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নির যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।’

মিন্নি পরে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে। মিন্নির বাবা অভিযোগ করে আসছেন, ‘নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে’ মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও তার দাবি।

বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কয়েক দফায় মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর গত ৫ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন চেয়ে ফের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

x

Check Also

আবারও ছড়িয়ে পড়ছে হাম, ২৩.২% শিশু দুই ডোজ নেওয়ার পরও আক্রান্ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ ...