Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / মিয়ানমারের সুর নরম হয়েছে, উসকানিতে সাড়া নয় : কাদের

মিয়ানমারের সুর নরম হয়েছে, উসকানিতে সাড়া নয় : কাদের

এমএনএ রিপোর্ট : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিয়ানমারের সুর নরম হয়েছে, উসকানিতে সাড়া দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারায় মিয়ানমারের সুর নরম হয়েছে। দেশটির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টারের সীমানা লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধ হয়েছে।
আজ রবিবার রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এসব কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হতো, তাহলে মিয়ানমারের সুর নরম হলো কেন? মিয়ানমারের যেখানে রোহিঙ্গাদের নিধন ও বিতাড়ন চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং এ অবস্থানে অনড় ছিল, সেখানে দেশটির মন্ত্রী দেশে ‘জয়েন্ট ওয়ার্ক গ্রুপ’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, কূটনৈতিক পথে সৃষ্টি করতে না পারায় মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছেন। আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের যাচাই বাছাই করে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।
মিয়ানমার বারবার আকাশ সীমা লঙ্ঘন করছে, সীমান্তে মাইন পুতছে, বাংকার নির্মাণ করছে- এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কি- এ প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার সীমান্ত লঙ্ঘন করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্ব জনমতের চাপে, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে এখন আর সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে না।
অব্যাহত দমন পীড়নের মুখে বাংলাদেশ সীমান্তে আবারো রোহিঙ্গা ঢল নামতে পারে বলে জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এখনও কিছু লোক আসছে। যতদিন মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর দমন পীড়ন চালাবে ততদিন বাংলাদেশ তাদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করবে না।
গতকাল শনিবার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের তরফ থেকে যুদ্ধের উসকানি ছিল। তাতে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ। একই কথা বলেন ওবায়দুল কাদেরও। মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রভাব প্রতিবেশি দেশগুলোতেও পড়তে পারে, সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখা দরকার। কারণ প্রতিবেশির ঘরে আগুন লাগলে এ আগুনের আঁচ কিন্তু অন্য প্রতিবেশীরও ঘরে গিয়েও লাগবে।’
সরকার প্রতিবেশি দেশগুলোকে রোহিঙ্গা সঙ্কটে পাশে টানতে ব্যর্থ হয়েছে-বিএনপির এ অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির আসলে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে কোন উদ্যোগ নেই, তারা উদ্বিগ্ন তাদের রাজনীতি নিয়ে।
প্রায় তিন মাস ধরে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ সম্পর্কে তার উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে তিন দফা বন্যা হয়েছে। এখন রোঙিঙ্গা সঙ্কটে দেশ নিপতিত। খালেদা জিয়া শুধু তারিখ দিয়েই যাচ্ছেন, দেশে আসছেন না। তার এসব ব্যাপারে কোনো উদ্বেগ, চিন্তা আছে বলে মনে হয় না।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...