এমএনএ রিপোর্ট : দেশের প্রথম মেট্রোরেলের ট্র্যাক ও এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও পয়েন্টে মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) নামের এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আরম্ভ হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ-৪-এর আওতায় উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট (উড়াল রেলপথ) ও নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে চার হাজার ২৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই প্যাকেজের ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (ইটাল-থাই) এবং চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো
করপোরেশন লিমিটেড। গত ৩ মে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি করা হয়। প্যাকেজ-২-এর আওতায় এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকায় মেট্রো রেলের ডিপোও নির্মাণ করবে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো।
প্রতিষ্ঠান দুটি বিমানবন্দর থেকে চিটাগাং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়ালপথ) নির্মাণ করছে। এ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকলেও, প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারের অগ্রাধিকারের মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০ প্যাকেজে সাতটির ঠিকাদার সিনোহাইড্রো। প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজও করছে। এ দুটি প্রকল্পেই ধীরগতিতে কাজের অভিযোগ রয়েছে সিনোহাইড্রোর বিরুদ্ধে। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সকল নিয়মনীতি মেনে মেট্রোরেলে ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো।
গত নভেম্বরে মেট্রো রেল নির্মাণ এলাকা, মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও ভূগর্ভস্থ পরিসেবা লাইন স্থানান্তর কাজ শুরু হয়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ হচ্ছে। ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণকাজের কারণে একই রকম দুর্ভোগের শঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নের স্বার্থে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নগরবাসীর প্রতি একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
প্যাকেজ-৫ ও ৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বাকি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প বিবরণী অনুযায়ী, এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্পের আওতায় সিপি ০৩ প্যাকেজটি হলো উত্তরা-উত্তর থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের ট্র্যাক ও এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণের জন্য আর সিপি ০৪ হলো পল্লবী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের ট্র্যাক ও এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণের জন্য।
এমআরটি লাইন ৬ হচ্ছে এলিভেটেড মেট্রোরেল সিস্টেম। রাজধানীর উত্তরা থেকে মিরপুর ও ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত এ মেট্রোরেল ১৬টি স্টেশনে থামবে। দ্রুতগতির এ মেট্রোরেল প্রতি চার মিনিট পরপর একটি স্টেশনে থামবে এবং প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
এর মধ্য দিয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করা যাবে এবং রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত করাও অনেকাংশে সহজ হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ জুন দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রকল্পটি ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে উত্তরা-উত্তর, উত্তরা-সেন্টার, উত্তরা-দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদালয় দোয়েলচত্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেড়িয়াম, মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ১৬টি স্টেশন থাকবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

