Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ময়মনসিংহের ভালুকায় সিমেন্টের ট্রাক উল্টে নিহত ১০

ময়মনসিংহের ভালুকায় সিমেন্টের ট্রাক উল্টে নিহত ১০

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১০ জন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকার মেহয়রাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দু’জন নারী রয়েছেন।

নিহত একই পরিবারের পাঁচজন হলেন- ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার যাত্রাবাজার গ্রামের মো. আজিজুল হক (৪০), তার স্ত্রী রেজিয়া খাতুন (৩৫), তিন ছেলে- মেহেদী হাসান (১১), নিজাম উদ্দিন নয়ন (৯) ও সিজার হোসেন সিজান (৭)। তাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা ইউনিয়নের ঢাকিরকান্দা গ্রামে। আজিজুল হক সপরিবারে ঢাকায় থাকতেন।

নিহত বাকি পাঁচজন হলেন- নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও রয়েছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর সিক্তা গ্রামের জোছনা বেগম (৫৫) ও তাঁর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (১৮), শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার শাজাহান (৪০), নকলা উপজেলার শুক্কুর আলী ((৬৫) ও শেরপুর সদর উপজেলার জহুরদি গ্রামের খোরশেদ আলম (৩৫)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দু’জনের অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম উজ্জ্বল জানান, টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী পণ্য বোঝাই ওই ট্রাকে করে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়ি ফিরছিলেন।

কিন্তু অতিরিক্ত বোঝাই ওই ট্রাকটি ভোরে ভালুকার মেহয়রাবাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়।

এতে সিমেন্টের বস্তার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা ৩ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান নামে একজন মারা যান।

সংস্কার কাজের জন্য মহাসড়কটির চার লেনের মধ্যে দুই লেন বন্ধ। এ কারণে প্রায়ই এখানে দুর্ঘনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলেও জহিরুল ইসলাম।

নিহত আজিজুলের ছোট ভাই শামসুল হক ও নজরুল ইসলাম জানান, আজিজুল, তার স্ত্রী ও তিন ছেলে ঢাকার বাসাবো এলাকায় থাকতেন। আজিজ ও বড় ছেলে মেহেদি ভ্যান চালাতেন। রেজিয়া খাতুন বাসায় কাজ করতেন।

রেজিয়ার বাবা আব্দুল জলিল অসুস্থ। তাকে দেখার জন্যই হতদরিদ্র পরিবারটি অল্প খরচে বাড়ি যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের ওপর উঠেছিল।

দুই ভাই তাদের পাঁচ স্বজনের লাশ বুঝে নিয়েছেন পুলিশের কাছ থেকে।

এছাড়াও অন্য নিহতের স্বজনেরা লাশ নেয়ার জন্য ভালুকা থানায় ভিড় করছেন। জেলা প্রশাসক সরকারি খরচে বাড়িতে লাশ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

খবর পেয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ইউএনও এবং ওসিকে লাশ দাফনে আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা সংস্কার করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে কারও গাফিলতি আছে কিনা তা খুঁজে দেখছে পুলিশ।

এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আরিফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম ছাড়াও সড়ক ও জনপথের একজন প্রতিনিধি এ কমিটিতে রয়েছেন।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...