Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনে ভোট শুরু

যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনে ভোট শুরু

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম সাধারণ নির্বাচন। গত এপ্রিলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় দেশটিতে এই ভোটাভুটি চলছে।

কয়েকটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, জোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশটিতে ৪০ হাজার ভোট কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আবার ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি লেবার নেতা জেরেমি করবিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন—আজ যুক্তরাজ্যের ভোটাররা এ সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এই ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে ওয়েস্টমিনিস্টারের প্রতিনিধি করার জন্য মোট ৬৫০ জনকে ভোট দেবেন ইংল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটাররা। ইতোমধ্যে ৪ কোটি ৬৯ লাখ লোক ভোট দিতে নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় এ সংখ্যা ছিলো ৪ কোটি ৬৪ লাখের মতো।

সর্বশেষ জরিপ বলছে, কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির ব্যবধান এখন ১ শতাংশের কম। লড়াইটা হতে পারে বেশ হাড্ডাহাড্ডি।

এক নজরে এবারের নির্বাচন:

# নির্বাচনের দিন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হবে এমন যে কেউ ভোটার নিবন্ধন করতে পেরেছেন। এবছর ভোটার নিবন্ধনের শেষ দিন ছিল ২২ মে।

# দেশের বাইরে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ডাকের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন; তবে ডাকে পাঠানো ভোট অবশ্যই ৮ জুনের আগে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে।

# মোট ৬৮টি দলের তিন হাজার ৩০৪ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ১৯১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

# এবার ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার ও চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্যারিশ হলগুলোতে; আগের নির্বাচনগুলোতে এর বাইরে পাব, অত্যাধুনিক লন্ড্রি ও স্কুল বাসগুলোকেও কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

এরই মধ্যে অনেকে ডাকযোগে পাঠিয়ে (পোস্টাল) আগাম ভোট দিয়েছেন; যা ২০১৫ সালের ভোটের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ওই নির্বাচনে দেশটির কনজারভেটিভ পার্টি ৬৫০ আসনের মধ্যে ৩৩১টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবাররা ২২৯টি আসন পেয়েছিল।

জানা গেছে, ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশ করা হবে। আজ মধ্যরাতের মধ্যে হয়তো কয়েকটি আসনের ফল পাওয়া যাবে। তবে স্থানীয় সময় কাল শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে ভোটের ফলাফলে জানা যাবে—কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে যেকোনো দলকে অবশ্যই ৩২৬টি আসনে জয় পেতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগে হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে স্থানীয় কোনো নির্বাচন না হওয়ায় ভোটের ফল দ্রুত পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছে বিবিসি।

রেক্সিট বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবার দুই তৃতীয়াংশ আসনের লক্ষ্যে প্রচারে নেমেছিল কনজারভেটিভরা।

শুরুর দিকের জরিপগুলোতে তাদের জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির প্রায় দ্বিগুণ দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু নির্বাচন পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি মে’র দল। এরই মধ্যে শুরুর তুলনায় তাদের জনপ্রিয়তা ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে জরিপে এতটা নিচে নেমে যাওয়ায় কনজারভেটিভ সদরদপ্তর মে-র নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে চিন্তা করছে বলেও জানায় সংবাদ মাধ্যমটি।

তবে জনপ্রিয়তা কমে গেলেও শেষ পর্যন্ত লেবারদের চাইতে বেশ খানিকটা এগিয়েই ছিল কনজারভেটিভ পার্টি।

দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার:

# ১৮ মে কনজারভেটিভরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে, যেখানে তারা ‘মূলধারার একটি সরকার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ‘মূলধারার ব্রিটেন’ উপহার দেবে।

# ১৬ মে লেবারদের ইশতেহারে বলা হয়, বছরে ৮০ থেকে এক লাখ ২৩ হাজার পাউন্ড আয় করে এমন ব্যক্তিদের উপর বাড়তি করারোপ করে তা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ যেসব খাতে কৃচ্ছ্রতা সাধন করা হচ্ছিল সেগুলোতে খরচ করবে।

# ১৭ মে লিবারেল ডেমোক্রেটদের ইশতেহার প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাদের নেতা টিম ফেরন ব্রেক্সিট বিষয়ে আর একটি গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।

# ৩০ মে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি তাদের ইশতেহারে বলে, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শেষের পর তারা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে নতুন করে গণভোটের আয়োজন করবে।

# ব্রেক্সিটের পক্ষে শক্ত অবস্থানের কথা ইশতেহারে বলেছে ওয়েলসের প্লাইড সাইমরু, ১৬ মে তারা তাদের ইশতেহার প্রকাশ করে।

# উগ্রপন্থী ইউকেআইপি ২৫ মে তাদের ইশতেহারে বিজয়ী হলে উগ্রবাদী ইসলাম মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি দেয়।

# আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইন ২২ মে তাদের ইশতেহারে আইরিশ রাজনীতিতে ‘নতুন দিগন্ত’ নিয়ে আসার কথা বলেছে।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর। ২০১৫-র সাধারণ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ডেভিড ক্যামেরন; কিন্তু ঐতিহাসিক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় আসার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

ফলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি টোরি সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রেক্সিট বিষয়ে পার্লামেন্ট সদস্যরা ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে না পারায় হঠাৎ করেই এপ্রিলে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। যদিও থেরেসা মে নির্বাচনের বিতর্ককে কেবলই ব্রেক্সিটকেন্দ্রিক রাখতে চেয়েছেন। জেরেমি করবিনের বৈপ্লবিক ইশতেহার আর দুই দফা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থেরেসার সেই চাওয়া ভেস্তে যায়।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...