Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি বাতিল ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি বাতিল ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

এমএনএ প্রতিবেদক

‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে’ আয়োজিত এক সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, চুক্তিটি কার্যকর থাকলে বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়বে। তার ভাষায়, এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যেখানে দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারাবে এবং বহিরাগত প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

আনু মুহাম্মদ আরও দাবি করেন, সংসদে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত। তিনি বলেন, সংসদ অনুমোদন না দিলে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার কথা নয়। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা অন্যান্য কিছু চুক্তি ও সিদ্ধান্ত—যেমন জ্বালানি আমদানি, প্রযুক্তি খাত এবং বন্দর-সংক্রান্ত উদ্যোগ—নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। তার মতে, এসব বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত দেশকে বিদেশি স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। তার বক্তব্যে তিনি জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কৌশলগত খাতে স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেন।

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাত ও স্থানীয় শিল্পের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, চুক্তিটি পড়ে তার ঘুম নষ্ট হয়েছে এবং এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহা মির্জা আরও বলেন, চুক্তি বহাল থাকলে দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং পরনির্ভরশীলতা বাড়বে।

সমাবেশে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে এবং স্থানীয় ওষুধ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানান।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ছিলেন মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ময়মনসিংহ শাখার নেতা আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সংগঠক দীপা দত্ত, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, শিল্পী অরূপ রাহীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা দাবি করেন, চুক্তিটি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত খাতে স্বনির্ভরতা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

x

Check Also

গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই নতুন ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে: জামায়াত আমীর

এমএনএ প্রতিবেদক জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকার ...