এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে নির্মাণশিল্পের অন্যতম উপাদান রডের বাজার। দিনকে দিন বেড়েই চলছে রডের দাম। যদিও বন্যার কারণে নির্মাণ কাজ কমে গেছে। বন্যার পর আবার জোরেশোরে কাজ শুরু হবে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত মুনাফা করতে মিলাররা সিন্ডিকেট করে সব ধরনের রডের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ১ মাসে রড তৈরির প্রধান উপকরণ স্কর্্যাপের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ ডলার। রড ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেছেন, হঠাত্ করেই রডের দাম বেড়ে গেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মিলাররা সব ধরনের রডের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। উৎপাদকরা একজোট হয়ে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করছে। তারা যে দামে রড দিচ্ছে আমরা তার ওপর মুনাফা ধরে বিক্রি করছি।
এদিকে রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্ক্রাপ, স্পঞ্জ আয়রন ও ওয়াস্ট স্ক্রাপ আমদানির ওপর ৫ শতাংশ সংরক্ষণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহার করেছে। ভূতাপেক্ষভাবে এ প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়ের ইংলিশ রোড ঘুরে ও রড ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে গ্রেড ভেদে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা।
৪০ গ্রেডের প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ হাজার টাকায়, যা এক মাস আগে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ৬০ গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা, যা এক মাস আগে ৪৩-৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভ্যাট বৃদ্ধির কথা বলে বাজেট ঘোষণার পরপরই রডের দাম বাড়ানো হয়েছে। ওই সময় টনপ্রতি রডের দাম ২-৪ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। পরে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় দাম কিছুটা কমে। কিন্তু সেটি আর আগের দামে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এখন আবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্রাপের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে রি-রোলিং মিল মালিকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু রড নয়, এঙ্গেল, ফ্লাট বারের দামও বাড়ানো হয়েছে।
রানী রি-রোলিং মিলের চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আগে প্রতি টন স্ক্রাপ কিনতে হতো ৩০০ ডলারে। এখন পর্যায়ক্রমে সেটি বেড়ে ৩৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগে যে স্ক্রাপ আসত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় সেটি আসাও বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে কাঁচামাল সংগ্রহে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই রডের দাম বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে রডের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাসাদুল আলম মাসুদও আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্রাপের দাম বাড়াকে দায়ী করে বলেন, এখন বন্যার কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় রডের ওপর চাপ কম। তাই অনেকে স্টক করছেন। তবে স্ক্রাপের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে রডের দাম আরও বাড়তে পারে।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে স্পেসিফিক ডিউটি প্রথা বাতিল হতো। এ কারণে তখন স্ক্রাপের ওপর আরডি আরোপ করা হয়। পরবর্তীকালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হলেও করণিক ভুলের কারণে সংরক্ষণমূলক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের তালিকা থেকে স্ক্রাপ বাদ পড়েনি। তাই ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের হারেই স্পেসিফিক ডিউটি বহাল থাকছে।
অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডাবল কেবিন পিকআপের ওপর সংরক্ষণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৪ দরজাবিশষ্টি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার সিসির মধ্যে ডাবল কেবিন পিকআপ আমদানি করলে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত সংরক্ষণমূলক শুল্ক দিতে হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

