Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / রফতানি ও আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ দেখছে ভারত
চিনি

রফতানি ও আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ দেখছে ভারত

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : বৈশ্বিক ভোগ্যপণ্যের বাজারে চিনির দাম এখন বেশ চড়া। মূলত চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় বাজার চাঙ্গা রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাজারের বর্তমান এ পরিস্থিতি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের সামনে। একদিকে নিজেদের উদ্বৃত্ত চিনি সরবরাহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে হিস্যা বাড়ানো, অন্যদিকে বেশি দাম পাওয়ায় রফতানি আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে দেশটির ব্যবসায়ীদের। বিনিয়োগবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা আইসিআরএর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক চিনি উৎপাদনে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়; প্রথম ব্রাজিল। কিন্তু লাতিন আমেরিকার দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির সরবরাহ আগের তুলনায় কমেছে। আগামী মৌসুমেও দেশটিতে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন সংকুচিত হওয়ার আভাস মিলেছে। এতে করে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোতে চিনির দাম আরো বাড়তে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারেন ভারতের ব্যবসায়ীরা।

আইসিআরএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি আগস্টে প্রতি টন অপরিশোধিত চিনির দাম উঠেছে ৪৩০ ডলার পর্যন্ত, গত চার বছর পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ। আর দাম সর্বোচ্চে থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন আরো বেশি পরিমাণ রফতানি করতে আগ্রহী উঠছেন। ফলে আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২১-২২ মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের হিস্যা বাড়বে। এতে সরকারি ভর্তুকি বাদ দিলেও বতর্মান বাজার পরিস্থিতিতে দেশটির মিলগুলো লাভবান হবে।

গত দুই বিপণন মৌসুমে রফতানিতে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি সুবিধা পেয়ে আসছে ভারতের মিলগুলো। রফতানি বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত চিনি কমিয়ে আনতে রফতানি কোটাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কোটা অনুযায়ী, চলতি বিপণন মৌসুমে ৬০ লাখ টন রফতানির লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে। যদিও এরই মধ্যে লক্ষ্যের ৯০ শতাংশ রফতানি করতে সক্ষম হয়েছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। এছাড়া চলতি মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে কিছু পরিমাণ চিনি ওপেন জেনারেল লাইসেন্সের (ওজিএল) মাধ্যমেও রফতানি করেছে মিলগুলো।আইসিআরএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ প্রধান সব্যসাচী মজুমদারের মতে, ব্রাজিলের উৎপাদন কমে আসা ভারতের জন্য এখন আশীর্বাদ হয়ে আসছে। ফলে দেশটির মিল ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

ভারতে প্রতি মৌসুমে প্রায় তিন কোটি টনের বেশি চিনি উৎপাদন হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগ্যপণ্যটির চাহিদা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়েনি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সরবরাহ বাড়তে থাকায় রফতানি বাড়াতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। এতে করে দেশটিতে প্রতি বছর উদ্বৃত্ত চিনির মজুদ পরিমাণ বাড়তে থাকে। চিনি বিক্রি করতে না পারে নগদ অর্থের সংকটে পড়ে চিনিকলগুলো। মিলগুলোর কাছে আখচাষীদের বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার চিনি রফতানিতে কোটা নির্ধারণ করে দেয় ও ভর্তুকি ঘোষণা করে। ফলে আগামী মৌসুমে রফতানি বাড়ার সম্ভাবনায় দেশটির ব্যবসায়ীরা চিনির উদ্বৃত্ত আরো কমিয়ে আনতে পারবে।

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...