এমএনএ প্রতিবেদক
‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে মন্ত্রীদের অবহিত করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন রমজান মাসে ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কর্মসূচি চালু করা হবে।
সভা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। আজকের বৈঠকে এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কার্ড চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কত পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটি মূলত সার্বজনীন; তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। হতদরিদ্রদের অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
রমজানেই কার্যক্রম শুরু হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু না হলে এর নির্বাচনী প্রভাব পড়তে পারে—এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচি চালু নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই; বর্তমানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে এ কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন কার্ড ও ভাতা কর্মসূচির তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তবে বিদ্যমান কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং নতুন ফ্যামিলি কার্ড সার্বজনীনভাবে বিতরণ করা হবে।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের কাছে এ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির নতুন উদ্ভাবন, যা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আরও একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে সকালে এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক এবং তিন বাহিনীর প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

