Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / রাখাইন থেকে মুসলমানদের পালিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সু চি

রাখাইন থেকে মুসলমানদের পালিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সু চি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন থেকে মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার আমরা (সরকার) উদ্বিগ্ন। আমরা সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানাই বলে জানিয়েয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নেত্রী অং সান সু চি।

অবশেষে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আজ মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সু চি এ কথা বলেন। তাঁর ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইনে সবশেষ সহিংসতা শুরুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন সু চি। রাখাইনে চলমান দমন-পীড়নের মুখে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটে এত দিন নীরব থাকায় সমালোচিত হচ্ছিলেন সু চি।

সু চি বলেন, অধিকাংশ মুসলিমই রাখাইন থেকে পালাননি এবং সেখানে সহিংসতাও শেষ হয়ে গেছে। অথচ গত বুধবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জাও হাতে জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোর মধ্যে একশ ৭৬ টিতেই কোনো জনমানব নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

জাও হাতে জানিয়েছেন, তিনটি পৌরসভায় মোট চারশ ৭১ টি রোহিঙ্গা গ্রাম রয়েছে। তার মধ্যে একশ ৭৬ টি গ্রাম জনশূন্য হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী ৩৪ টি গ্রামে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটে নিজের অবস্থানের কারণে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন সু চি। তবে এসব সমালোচনা সু চির মন গলাতে পারেনি।

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, রাখাইন সহিংসতায় সব মানুষের দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করেন তিনি।

সু চি বলেন, ‘রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে চাই।’

বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের সত্যাসত্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া যেকোনো সময় শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে জানান সু চি।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি বলেন, ‘আমরা শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আইনের শাসন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি পুন: প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এনএলডি নেত্রী বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না।’

অন্যকে দোষারোপ করা বা দায়িত্ব এড়ানো মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে সু চি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি সহিংসতার নিন্দা জানাই।’

রাখাইন সংকট প্রসঙ্গে সু চি বলেন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আছে। তাঁদের সব কথাই শুনতে হবে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিযোগগুলো যে তথ্য-প্রমাণনির্ভর, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বলেছেন, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তাঁর সরকার কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার ভীত নয় বলে উল্লেখ করেন সু চি। তিনি বলেন, মিয়ানমার একটি নবীন ও ভঙ্গুর দেশ। তাঁরা অনেক সমস্যা মোকাবিলা করছেন। সব সমস্যাই মোকাবিলা করতে হবে। কিছু সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না।

সেখানে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। আমাদের সবার অভিযোগ শুনতে হবে। আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিখাঁদ প্রমাণের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে- যোগ করেন সু চি।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ ও ভঙ্গুর দেশ। আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি। তবে সবার সঙ্গে তা সামলিয়ে উঠতে হবে। মুহূর্তেই আমরা কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারি না।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিতর্কিত এই নোবেলজয়ী তার বক্তৃতায় আরো জানান, বার্মা একটি জটিল জাতি। বর্তমানে উদ্ভূত সমস্যা এর জটিলতা আরো ঘণীভূত করেছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সংকট সমাধানের প্রত্যাশা করে জনগণ।

ভাষণে সু চি বলেন, আন্তর্জাতিক চাপে ভীত নয় মিয়ানমার। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। শান্তি না আসা পর্যন্ত সেনা অভিযান চলবে। আমরা শান্তি এবং ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না।

সু চি আরো বলেন, এই সংকট তৈরি হওয়ার শুরু হওয়ার আগেই আমরা নিশ্চিত করেছিলাম যে, সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাখাইনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। আমরা শান্তি এবং উন্নতি চাই।

রোহিঙ্গা সংকেটর পর এই প্রথম জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন অং সান সু চি। এই ভাষণকে কেন্দ্রকে গোটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের ব্যাপক কৌতূহল ছিল। কারণ রোহিঙ্গাদের শান্তি ফিরিয়ে আনতে তার ইতিবাচক ভূমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চিকে শেষ সুযোগ কাজে লাগানো কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।

তবে আজ মঙ্গলবারের ভাষণে সু চির সেই সুযোগ কাজের লাগানোর কোনো আলামত বোঝা যায়নি। সু চি শুধু এইটুকু বলেছেন, রাখাইন থেকে মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার খবরে তারা উদ্বিগ্ন।

রাখাইনে তার দেশের সেনাবাহিনীর নির্বাচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি সু চি। বরং তিনি বলেছেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে কোনো ‘সশস্ত্র সংঘর্ষ অথবা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ হয়নি।

তিনি বলেন, অধিকাংশ মুসলিমই রাখাইনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মানে এটাই নির্দেশ করে যে পরিস্থিতি এতটাই তীব্র নয়।

ভাষণে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছেন সু চি। টেলিভিশনে দেয়া ওই ভাষণে বারবার রাখাইনের মুসলিম শব্দটি উল্লেখ করলেও রোহিঙ্গা মুসলিম উল্লেখ করেননি শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নেত্রী।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ ঠাঁই নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মানুষ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের কাছে সমস্যার সমাধান চাচ্ছে। এই সংকট সমাধানে ১৮ মাস খুবই অল্প সময়।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন ও আরাকান রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...