এমএনএ প্রতিবেদক
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের জন্য আর আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই। কোথাও দু-একটি, আবার কোথাও ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অল্প সময় অপেক্ষার মধ্যেই গ্রাহকেরা তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও সরবরাহে সামান্য ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন কেউ কেউ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শহীদবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হলেও বর্তমানে সেই চাপ অনেকটাই কমেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহীদবাগের রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুটি মোটরসাইকেল তেল নিচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন ছিল, সেখানে এখন তিন-চারটি গাড়ি নির্বিঘ্নে তেল সংগ্রহ করছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরামবাগের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে ১০ থেকে ১৫টি প্রাইভেটকার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলের লাইন ছিল একেবারেই খালি। তেল নিতে আসা চালক মো. শাহজাহান বলেন, “কিছুক্ষণ আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। তেল এখনো আসেনি, তবে বলছে শিগগিরই আসবে।”
স্টেশনের কর্মচারী মো. রাজু জানান, তেল পৌঁছালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপেক্ষমাণ গাড়িগুলোকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
দুপুর ১২টার দিকে মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো লাইন নেই। মাঝেমধ্যে দু-একটি গাড়ি এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে হাজারের বেশি যানবাহন অপেক্ষা করছিল, সেখানে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
স্টেশনের মালিক আবদুস সালাম বলেন, “পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবে আগের তুলনায় ডিজেল কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে, যদিও অকটেন নিয়ে তেমন সমস্যা নেই।”
একই চিত্র দেখা গেছে মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে কোনো লাইন ছাড়াই গাড়িগুলো তেল সংগ্রহ করছে।
রাইড শেয়ার চালক মো. স্বপন বলেন, “এখন আর ভোগান্তি নেই, তবে তেলের দাম বেশি। ভাড়া তো আগের মতোই, তাই আমাদের কষ্ট হচ্ছে।”

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। দেশের কোথাও তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন নেই এবং সংকটের আশঙ্কাও নেই।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানালেও ভুল তথ্য বা অপতথ্য প্রচার বরদাশত করা হবে না।
সামগ্রিকভাবে, রাজধানীর জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

