Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এমএনএ রিপোর্ট : সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আবার রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের পাশাপাশি প্লেকার্ডে লেখা বিভিন্ন স্লোগানও দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এসব বুদ্ধিদীপ্ত স্লোগান নজর কেড়েছে গণমাধ্যমকর্মী ও পথচারীদের।

অনেকের মুখে শোনা যায় ‌‘ওস্তাদ স্পিড বাড়ান, সামনে স্টুডেন্ট’ স্লোগান। এই স্লোগান লেখা প্লেকার্ডও নিয়ে এসেছেন কয়েকজন। ঢাকার রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই যে ছাত্রছাত্রী সে কথা স্মরণ দিতে এই স্লোগান বলে জানান এক বিক্ষোভকারী।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া আরও স্লোগানগুলো হচ্ছে- ‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’, ‘সাদা জেব্রা ক্রসিং লালে লজ্জা কার’। এরকম নানা স্লোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজধানীর প্রগতি সরণির সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক গেইটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা তারা। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী। তারা শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সময় তাঁরা দুর্ঘটনাস্থলে আবরারের নামে একটি পদচারী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। তাঁরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। যেভাবেই হোক সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, আশ্বাসে আস্থা নেই তাঁদের।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঠিক ওই জায়গাতেই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার নিহত হন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘জবাব চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে মিরপুর রোডে ধানমন্ডি ২৭ থেকে ৩২ নম্বর পর্যন্ত পূর্ব পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তারাও বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ফার্মগেটে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায়।

উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

পুরান ঢাকার তাঁতি বাজার, জনসন রোড ও রায় সাহেব বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে কার্যত ‘অচল’ হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকা।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল কলেজসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্কুলকলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে।

বসুন্ধরায় শিক্ষার্থীরা যেখানে অবস্থান নিয়েছেন, এর পাশেই একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে বিউপির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সালমান তারেক নামের ওই শিক্ষার্থী বলেন, আগেও আন্দোলন হয়েছে, তখনো আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। জাবালে নূর বাস এখনো চলছে। বছর দেড়েক আগে এই জায়গায় পদচারী সেতু করার কথা ছিল, কিন্তু দেখতেই পাচ্ছেন—হয়নি।

গতকাল আবরারের মৃত্যুর পর সুপ্রভাত বাসের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান মেয়র। অথচ কালকেই ওই পরিবহনের বাস চলতে দেখা যায়। তাই আশ্বাসে নয়, আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নর্দ্দা এলাকার প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন আবরার। রাস্তার উল্টো পাশে ছিল আবরারের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে সেই বাসের কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখন ওই রাস্তায় দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে সুপ্রভাত পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) একটি বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন আবরার। এরপর সেই বাসটি তাকে চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নিথর দেহ টেনেও নিয়ে যায় খানিকটা। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবরারের।

এ ঘটনার পর রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। তাঁরা সেখানে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন। আজ সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাসচালকের শাস্তি, নতুন বাসচালকেরা যেন যথাযথ নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স পান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জেব্রাক্রসিংয়ের ব্যবহার, জেব্রাক্রসিংয়ের সামনে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন, প্রগতি সরণির সামনে পদচারী-সেতু স্থাপন।

আবরার ছিলেন বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী, গৃহিণী মা ফরিদা ফাতেমী ও একমাত্র ছোট ভাই আবিদ আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে থাকতেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায়।

গতকাল মঙ্গলবারের নির্মম দুর্ঘটনা সহপাঠী আর পথচারীদের সামনেই ঘটেছে। এরপর ফুঁসে ওঠেন তারা। বারিধারায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল গেট থেকে শুরু করে প্রগতি সরণি অবরোধ করে দিনভর চলে বিক্ষোভ। এতে আবরারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’। তাদের সঙ্গে ‘সড়কে হত্যা’র প্রতিবাদে শামিল হন অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় লোকজনও। রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার আট মাসের মাথায় সড়কে আবারও স্লোগান উঠল- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...