Don't Miss
Home / অর্থনীতি / রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন: আমিরাতের সহযোগিতা নিতে পারে বাংলাদেশ
ইউরোপের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদে

রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন: আমিরাতের সহযোগিতা নিতে পারে বাংলাদেশ

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : মস্কো-কিয়েভের যুদ্ধ ঢাকার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। রাশিয়ার ওপর আমেরিকা-ইউরোপের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের যেসব উন্নয়ন প্রকল্প রাশিয়া বাস্তবায়ন করছে সেগুলোসহ বাণিজ্য সংক্রান্ত ঢাকা-মস্কো আর্থিক লেনদেনেও প্রভাব পড়েছে।এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই পথ বের করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ উন্নয়ন প্রকল্পে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালু রাখতে বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা নিতে পারে বাংলাদেশ।

একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার ওপর আমেরিকা-ইউরোপের আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই মুহূর্তে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারছেন না। নিষেধাজ্ঞার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে রাশিয়াগামী পণ্যবোঝাই অনেক জাহাজের জট লেগেছে। রূপপুরসহ দেশের একাধিক মেগা প্রকল্প উন্নয়ন করছে রাশিয়া। এসব প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনও এখন স্থগিত। এমন অবস্থায় বিকল্প খুঁজতে এবং বিরূপ পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে দেশের স্বার্থ ঠিক রাখা যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বৈঠক চলছে। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এমন একটি সূত্র জানিয়েছে চলমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করার জন্য বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশের কথা ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সামনে এই সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত ডিসেম্বরে মালদ্বীপ সফরের পর এই বছরে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করছেন। এরই মধ্যে আমিরাত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে। দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বুধবার চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আমিরাতের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালু রাখতে এই সফরে ঢাকার পক্ষ থেকে আলাপ করার কথা রয়েছে।রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশে কেমন প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে ঢাকার একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল এই প্রতিবেদককে জানান, সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এই বিষয়ে সার্বিকভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সামনে আরও বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হবে।

ওই কূটনীতিক আরও জানান, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব শেষ হয়ে গেলেও আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। আর বেঁচে থাকার জন্য সবার আগে খাদ্য প্রয়োজন। তাই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যাতে খাদ্য সঙ্কটে না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ কী কী আমদানি করে, সামনে কী প্রভাব পড়তে পারে, প্রভাব কাটাতে বিকল্প কী হতে পারে তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বিকল্প কী হতে পারে এবং আর্থিক সংযোগ কীভাবে বজায় থাকবে সে বিষয়েও বিকল্প বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, উত্তেজনা চলমান থাকলে বাংলাদেশ ১০ বিষয়ে হুমকিতে বা চাপে পড়তে পারে। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। বাংলাদেশের এনার্জি নিউক্লিয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন বৈরী পরিস্থিতির শিকার হবে। কেননা রাশিয়ার অ্যাটমিক এনার্জি বিষয়ক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। একইভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নেও ব্যাঘাত আসতে পারে। রাশিয়া-বেলারুশ-ইউক্রেন থেকে সারাবিশ্ব গম আমদানি করে থাকে। উত্তেজনা বাড়লে এতে খাদ্য ভারসাম্য নষ্ট হবে, যার আঘাত বাংলাদেশেও আসবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের বাণিজ্য খাতের সরবরাহ যোগাযোগে ব্যাঘাত হবে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক সরবরাহ খাতে। চলমান উত্তেজনায় ছোট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে অনিরাপত্তা দেখা যাচ্ছে। এখানে বাংলাদেশেরও উদ্বিগ্ন আছে, কেননা বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ। এই ঘটনায় বাংলাদেশ রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষ থেকেই চাপে পড়বে। বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে সামরিক ও জ্বালানি খাতের যে সহযোগিতা নেয় তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থায় চলমান উত্তেজনা আঘাত হানবে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. মাহফুজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ ইউক্রেন থেকে প্রচুর খাদ্যশস্য যেমন সানফ্লাওয়ার তেল, গম ও পোল্ট্রি খাবার ইত্যাদি আনে। এ ক্ষেত্রে দেশের দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়বে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলে প্রভাব পড়বে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রভাব আসবে। আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে যখন ইউক্রেন থেকে প্রচুর শরণার্থী ইউরোপে ঢুকবে, কারণ তখন যারা শরণার্থী নিয়ে কাজ করে তাদের মনোযোগ বা সহযোগিতা ওইদিকে থাকবে। এতে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈশি^ক যে সহায়তা পাচ্ছে তাতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়বে। এটাও আমাদের জন্য একটা ক্ষতি। ভূ-রাজনীতি ইস্যুতেও বাংলাদেশ চাপে পড়বে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা-ইউরোপ উইং দেখভাল করেন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও সচিব রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী। তিনি গতকাল এই প্রতিবেদককে তার দফতরে বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়ছে তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরকারের মধ্যে একাধিক বৈঠক চলছে। সামনে আরও কয়েকটা বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরাও আমাদের স্বার্থ ঠিক রাখতে বিকল্প জ্বালানির উৎস, বিকল্প বিদ্যুৎ শক্তির উৎস, বাণিজ্যে বিশেষ করে গম ও কৃষিদ্রব্য, স্ক্র্যাপ মেটাল এগুলোর বিকল্প উৎস বের করার চেষ্টা করছি। অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।বাংলাদেশ কী চলমান পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী বলেন, এটা বলা মুশকিল। পরিস্থিতি খুব জটিল।

x

Check Also

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ চুক্তি করছে বিমান

বিশেষ প্রতিনিধি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিমান নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে বহুল ...