এমএনএ রিপোর্ট : রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
আজ সোমবার দুপুরে তিনি বঙ্গভবনে গিয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক সেখানে অবস্থান করেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদের কী নিয়ে কথা বলেছেন তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
এর আগে শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাসায় যান ওবায়দুল কাদের। সেখানে অবস্থানকালে প্রধান বিচারপতি সঙ্গে আলাপের পাশাপাশি নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।
আজ সোমবার দুপুরের দিকে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওবায়দুল কাদের। প্রায় ঘণ্টাখানেক সেখানে অবস্থান করেন তিনি। সাক্ষাতের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের গণমাধ্যমকে বলেন, গত শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাসভবনে যান মন্ত্রী। সেখানে দুজনের মধ্যে বৈঠক হয়। এই বৈঠকের বিষয়বস্তু আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে অবহিত করেছেন সেতুমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ওবায়দুল কাদের দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। সাক্ষাতের পর গতকাল রবিবার সকালে গণভবনে গিয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবহিত করেন।
ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আরও বৈঠক হবে।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাৎ হয়।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের পর্যবেক্ষণে আসা ‘অনভিপ্রেত’ বিষয়গুলো বাদ দেওয়াই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য বলে সূত্র জানিয়েছে।
পরে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘিরে চলমান বিতর্কের বিষয়ে দলীয় অবস্থান জানাতেই প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে যেসব বিষয় এসেছে, সে বিষয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ওবায়দুল কাদের।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এই রায়, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা।
আওয়ামী লীগ মনে করছে, রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি রয়েছে। এর পেছনে ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে। এ জন্য এই রায়কে যতটা সম্ভব প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি।
২ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রায় এক সপ্তাহ সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রায় নীরব ছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সরকারের মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে রায় নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন।
উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা ‘অবৈধ’ ঘোষণার রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্ট।
ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। রায় প্রকাশের পর থেকেই এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করলেও বিএনপি একে ‘ঐতিহাসিক’ বলছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির ‘অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য’ ও পর্যবেক্ষণের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার কর্মসূচি পালন করেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে অনুষ্ঠিত ওই প্রতিবাদ সভায় তারা এসব ‘অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য’ আদালতকে স্বপ্রনোদিত হয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অপরদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তনে প্রধান বিচারপতির ওপর সরকার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডান চোখের অস্ত্রোপচারের পর তার আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

