রাষ্ট্রপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হলেন আবদুল হামিদ
Posted by: News Desk
February 7, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন মো. আবদুল হামিদ। আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ এপ্রিল শপথ নিতে পারেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাই করে ১৯৯১ সালের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী একক প্রার্থী হিসেবে মো. আবদুল হামিদকে ফের নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট আজ বুধবারই প্রকাশিত হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, গেজেট নিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যাবো।
গত ৩১ জানুয়ারি (বুধবার) রাতে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মো. আবদুল হামিদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র নেন মো. আবদুল হামিদ। তার পক্ষে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ ওইদিন সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দ্বিতীয় মেয়াদেও দায়িত্ব পেলেন হামিদ।
সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর যেকোনো দিন শপথ নিতে পারেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে রাষ্ট্রপতির পদশূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের ৯০-৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত ৩১ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত শুক্রবার আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং রবিবার রাষ্ট্রপতি ওই মনোনয়নপত্রে সই করেন।
আবদুল হামিদ মোট তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। প্রথম মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ওবায়দুল কাদের, আর সমর্থক হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।
দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আর সমর্থক হয়েছেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ।
তৃতীয় মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যার সমর্থক হয়েছেন হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক, শহীদুজ্জামান সরকার ও ইকবালুর রহিম এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল কবীর কাউসার।
এগুলোর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের প্রস্তাবিত মনোনয়নটি বাছাইয়ে বৈধ হলে সেটিই গ্রহণ করা হয়। অবশিষ্ট দু’টি আর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন পড়েনি বলেও জানান সিইসি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি।
তবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন কেবল আবদুল হামিদই। সংবিধানে সর্বোচ্চ দুই বার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তার শেষ মেয়াদ।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ। আর এবার ২৩ এপ্রিল তার শপথ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন সিইসি।
২০১৩ সালের ১৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ জিল্লুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে সেদিন থেকে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আবদুল হামিদ।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৫ ফেব্রুয়ারি, যাচাই-বাছাই ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহার ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
অন্যকোনো প্রার্থী না থাকলে ওইদিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন আবদুল হামিদ। আর যদি অন্য প্রার্থী থাকেন সেক্ষেত্রে ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে জাতীয় সংসদ ভবনে। সংবিধান অনুযায়ী এতে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা (এমপিরা)। এবার সংসদে ৩৪৮টি ভোট রয়েছে।
আবদুল হামিদের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে মো. আবদুল হামিদ
যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকাকালেই তিনি যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। এক পর্যায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সবশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন।
সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ।
নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন তিনি।
পদে রাষ্ট্রপতি হলেন আবদুল হামিদ পুনর্নির্বাচিত 2018-02-07