বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির পদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক এখনও থামেনি। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কিনা, নাকি নতুন সরকার তাকে সরিয়ে দেবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবি তোলে। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়। তবে সাংবিধানিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকার সেই দাবিতে সাড়া দেয়নি। তখন দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপিও বিষয়টিতে সমর্থন দেয়নি, ফলে আন্দোলন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অধীনেই অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শপথ নেন। যদিও ওই সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেকটাই সীমিত ছিল এবং রাষ্ট্রীয় অনেক আনুষ্ঠানিকতা থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। সরকারপ্রধান তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্পর্কের দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। এখন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধানকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়।
তবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে আলোচনা তুঙ্গে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিন ইমেজ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
এক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন— স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া তিন প্রবীন নেতা দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন; ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও ড. আব্দুল মঈন খান।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এরা সবাই পরীক্ষিত এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে জমিরউদ্দিন সরকার অতীতে স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতি চালুর পর থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কেউ দুইবারের বেশি এ পদে থাকতে পারেন না।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে— মেয়াদ শেষ হলে; পদত্যাগ করলে; মৃত্যু হলে অথবা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ হলে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালে। তবে তিনি নিজেই আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের সমর্থন থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা অনিশ্চিত। বিএনপির একাধিক নেতাও মনে করছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন আসতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল দুটোই বিরাজ করছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি বহাল থাকবেন, নাকি নতুন মুখ আসবে—তা নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

