এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার সকালে রিয়ালকে ৪-১ গোলে ‘বিধ্বস্ত’ করেছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির প্রথম ম্যাচে টাইব্রেকারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার ম্যানচেস্টারের আরেক দলের কাছে পাত্তাই পায়নি জিনেদিন জিদানের দল।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস মেমোরিয়াল কলোসিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে ৫২ থেকে ৬৭ মিনিটের মধ্যে এক ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করতে না পারলে আরো বড় হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতো জিদানের দলকে।
গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষেও বোঝা যায়নি এমন গোলের বন্যা বইয়ে দেবেন পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ৫২ মিনিটে নিকোলাস ওটামেন্ডি গোলমুখ খোলার পর থেকে সিটি যেন পথ চিনে যায়। ৫৯ মিনিটে রাহিম স্টার্লিং, ৬৭ মিনিটে জন স্টোনস, ৮১ মিনিটে ব্রাহিম ডিয়াজ গোল করেন সিটির পক্ষে। ৯০ মিনিটে এক গোল শোধ করেন অস্কার।
বিরতির পর ম্যানচেস্টার সিটির তিনটি গোলেই অবদান রাখেন কেভিন ডি ব্রুইন। ৫২তম মিনিটে ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিক থেকে ওড়ে আসা বলে জন স্টোনসের নেয়া হেড রুখে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি কেইলর নাভালের পরিবর্তে মাঠে নামা রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক কিকো ক্যাসিয়া। কাছে থাকা সুযোগসন্ধানী নিকোলাস ওতামেন্দি দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যান সিটি। এবারও গোলের উৎস ছিলেন ডি ব্রুইন। এই বেলজিয়ান তারকার পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন রাহিম স্টারলিং।
৬৭তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন শেষ করে দেয় ম্যানচেস্টার সিটি। ডান প্রান্ত থেকে ডি ব্রুইনের বাড়ানো পাস ধরে ক্যাসিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান স্টোনস।
৮২তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের দুঃস্বপ্ন বাড়ান ব্রাহিম দিয়াজ। ২০ গজ দূর থেকে জোরালো শটে দর্শনীয় গোল করে রিয়াল শিবিরকে হতভম্ব করে দেন ১৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা।
এ ম্যাচে ছিলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে জিদান বেশ শক্তিশালী দলই গড়েছিলেন। গোলপোস্টের নিচে নাভাস, রক্ষণে কারভাহাল, মার্সেলো, ভারান, নাচো। মাঝমাঠে কাসেমিরো, মডরিচ, কোভাচিচ। আক্রমণে বেনজেমা, বেল, ইসকো। অবশ্য ৬২ মিনিটে একাদশের নয়জনকে বদলে ফেলেন জিদান। রিয়াল তখন পিছিয়ে ছিল ২-০ গোলে।
নির্ধারিত সময়ের খেলার শেষ মিনিটে সান্ত্বনার গোলের দেখা পায় রিয়াল মাদ্রিদ। অস্কার রদ্রিগেজ গোল করে ব্যবধান ৪-১ এ নামিয়ে আনেন। তারপরও শেষ পর্যন্ত গার্দিওলার কাছে বিধ্বস্ত হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় জিদানকে।
ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস কাপের দুটি ম্যাচেই হারল রিয়াল। আগের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
গত বছর প্রাক-মৌসুমে পিএসজির কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেলেও পুরো মৌসুমে কখনো ৪ গোল খায়নি রিয়াল। বদলি হিসেবে নামা তরুণ ডিফেন্ডার আলভারো তেয়েরো, হেসুস ভায়েখো, আশরাফ হাকিমিরা বলতে পারেন, অর্ধেক দায় তো সিনিয়রদেরও।
আমেরিকা সফরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় ৩০ জুলাই রিয়ালের বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলটি টানা দুই ম্যাচ হারলেও বার্সা শিবিরের অবস্থা বিপরীত। জুভেন্টাসকে পরাজিত করার পর বৃহস্পতিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আর্নেস্টো ভালভার্দের দল।
প্রথম ম্যাচে ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর আজকের জয় সিটিকে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ম্যাচ শেষে গার্দিওলাকে বেশ তৃপ্তও দেখাল। বার্সেলোনার কোচ থাকার সময় অবশ্য রিয়ালকে ৫-০ আর ৬-২ গোলে হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

