রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে : কফি আনান
Posted by: News Desk
October 14, 2017
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সামরিক নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে মিয়ানমারকে। এজন্য দেশটিকে চাপ দিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।
রাখাইন সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমার সরকার গঠিত কমিশনের প্রধান কফি আনান দেশটির আইন সংশোধন করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক স্বীকৃতি দেওয়ার উপরও জোর দিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের এক বৈঠকে অংশ নেন কফি আনান।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে ‘অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট’ এর চেয়ারম্যান কফি আনান ছাড়াও জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।
গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতা শুরুর পর ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে রয়েছে আরও ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।
রাখাইন সঙ্কট নিয়ে আনান কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই সহিংসতার শুরু হয়।
ওই কমিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমারে নাগরিকত্বহীন অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশের পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের কথাও বলা হয়।
এরপর সহিংসতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা ফের বাস্তুচ্যুত হলে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ে। তার ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর এই বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে কফি আনান সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইন প্রদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তার নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ মিয়ানমার সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদী।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কফি আনান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিয়ে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে পুনর্বাসনে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও চীন দৃশ্যত মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে তৎপর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রও রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা জানাচ্ছে।
কফি আনান মিয়ানমারের আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান নিয়ে সমালোচনার মুখে তিনি বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে দিয়েছেন সু চি।
কফি আনান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় উভয় দেশই লাভবান হবে।
গতকাল শুক্রবারের বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।
এই সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের সরকারি বক্তব্য ও বাস্তব চিত্রের ফারাক তুলে ধরে তিনি বলেন, মিয়ানমারের দিক থেকে উপর্যুপরি উসকানি এবং আকাশ সীমা লঙ্ঘন সত্ত্বেও বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা দেখিয়ে আসছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করেন মাসুদ বিন মোমেন।
তিনি বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল সমস্যা সমাধান করা কঠিন হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধরা মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও অফিস অব দ্য হাই কমিশন অব হিউম্যান রাইটস, অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স, ইউএনএইচসিআর, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও সভায় বক্তব্য রাখেন।
গত ২৮ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর তিনবার আলোচনায় বসে। ১৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের কারণে গত আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ থেকে দেশটির ৫ লাখেরও বেশী মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর এ দমন-পীড়নকে জাতিগত নিধন হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর নিন্দা জানায়। এএফপি।
হবে নিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারকে কফি আনান ফিরিয়ে অবশ্যই 2017-10-14