এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে অভিবাসীদের উস্কে দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন বেলারুশিয়ান রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেছেন বেলারুশনেতা।সীমান্ত সংকটে হিমশীতল শীতের মধ্যে শরণার্থীদের সুস্থতার জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। এ নিয়ে লুকাশেঙ্কো বলেছেন, এটি ‘সম্ভবত’ তাদের সেনাদের কাজ, যারা অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে। সেই সঙ্গে অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানাতে নারাজ তিনি।বেলারুশের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশের সরকাররা অভিযোগ এনেছে সীমান্ত সংকটকের পরিস্থিতিতে কেন্দ্র করে। তাদের দাবি, বিদেশ থেকে লোক এনে ইউরোপের সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই এমন সংকট তৈরি করেছে বেলারুশ। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে বেলারুশ।
শরণার্থীদের পোল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করার বিষয়ে বেলারুশ সহায়তা করছে কিনা জানতে চাইলে লুকাশেঙ্কো বলেন, আমি মনে করি এটি একেবারেই অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমরা স্লাভ। আমাদের হৃদয় আছে। আমাদের সৈন্যরা জানে অভিবাসীরা জার্মানিতে যাচ্ছে, হয়তো কেউ তাদের সাহায্য করেছে। তবে আমি তাদের এখানে আমন্ত্রণ জানাইনি।
শুক্রবার পোলিশ সীমান্ত রক্ষীরা বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সীমান্তে শরণার্থী এবং উদ্বাস্তুদের দুটি দল বেলারুশ থেকে পারাপারের চেষ্টা করছিল। সেখানে প্রায় ৫০০ জন মানুষ ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বেলারুশীয় সহায়তায় পাথর ও টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করছিল। এছাড়া কর্তৃপক্ষের জানিয়েছে সেখানে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সীমান্তের এমন পরিস্থিতিতে অন্তত ১১ জন শরণার্থী মারা গেছেন। যদিও প্রকৃত সংখ্যা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে, কেননা হিমশীতল শীতের পরিস্থিতির মধ্যে মানুষের সুস্থতার জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংঘঠনগুলো বলছে, সীমান্ত পার হতে চাওয়া অভিবাসিদের ফেরত পাঠিয়ে পোল্যান্ড দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু পোল্যান্ড বলেছে, পরবর্তীতে আরও শরণার্থীদের আসা বন্ধ করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়।
এদিকে বেলারুশিয়ান দিকের শিবির থেকে অভিবাসীদের বৃহস্পতিবার একটি বিশাল জনাকীর্ণ গুদামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত ২৩ বছর বয়সী একজন ইলেকট্রিশিয়ান মোহাম্মদ নূর গণমাধ্যমে বলেন, আমি নিজের জন্য যা চাই, অন্যদের জন্যও তাই চাই। ইউরোপে গিয়ে একটি স্থিতিশীল জীবনযাপন করতে চাই।
লেবানন থেকে বেলারুশে আগত মনসুর নাসার বলেন, বেলারুশিয়ান সেনাবাহিনী আমাদের বলেছিল, আপনারা যদি ফিরে আসেন, আমরা আপনাকে হত্যা করব। তিনি আরও বলেন, আমরা পুকুর থেকে পান করেছি… আমাদের লোকেরা সর্বদা নির্যাতিত।এদিকে রাশিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেসের একজন রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির সোটনিকভ গণমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, এই পরিস্থিতির একটি সম্ভাব্য সমাধান হ’ল ইউরোপীয় ইউনিয়নের আপস করা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

