Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / শহীদ মিনারে নায়করাজকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে নায়করাজকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদনের জন্য বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ্জাকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়।

এর আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন- এফডিসিতে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জানাজা শেষে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নায়করাজ রাজ্জাকের লাশ নিয়ে আসলে তাকে দেখতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে রাজ্জাককে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করা হয়। শহীদ মিনারে নায়করাজ রাজ্জাককে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানসহ সর্বস্তরের মানুষ।

এর আগে বেলা পৌনে বারোটার সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এফডিসিতে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নায়করাজের ঘনিষ্ঠজন, সহকর্মী ও শিল্পী, কলা-কুশলী এবং ভক্তরা অংশ নেন। সকালে রাজ্জাকের লাশ এফডিসিতে নিয়ে আসা হলে শিল্পী, কলা-কুশলী সহ ভক্তরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনতার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে নায়ক রাজের দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন। এছাড়া চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহযোদ্ধারাও শোক জানিয়েছেন।

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে তার মরদেহ গুলশানে আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুণী এই চলচ্চিত্র অভিনেতার মরদেহ এফডিসিতে নেওয়া হয়। সেখানে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা রাজ্জাককে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ ও কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি পাঁচ সন্তানসহ, অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত, অনুসারী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নায়ক আবদুর রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ওখানেই তার বেড়ে ওঠা। স্কুল জীবনে থাকা অবস্থায় তার অভিনয়ের হাতেখড়ি। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা স্কুলের মঞ্চনাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা। পাকিস্তানেও তিনি অভিনয় নিয়ে কাজ করেছেন।

দেশভাগের পরে ১৯৬৪ সালে সেইসময়ের পূর্বপাকিস্তানে চলে আসেন সপরিবারে। টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। সিনেমায় অভিনয়ের আগে সহকারী পরিচালনা করেছিলেন আবদুল জব্বার খানের অধীনে।

দমফাঁটানো হাসির সিনেমা ফেকু ওস্তাগড় লেন সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন। এরপর কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ ক’টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। এরপর ১৯৬৬ সালে বেহুলা চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকাই ছবিতে সদর্পে উপস্থিত হন দর্শকনন্দিত এই নায়ক। তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী বিপ্লবী সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় ‘ফারুক’ চরিত্রটি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আখেরি স্টেশন, বেহুলা, আগুন নিয়ে খেলা, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, জীবন থেকে নেয়া, নাচের পুতুল, পিচঢালা পথ, আবির্ভাব, দ্বীপ নেভে নাই, টাকা আনা পাই, অশ্রু দিয়ে লেখা, ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, ছুটির ঘন্টা, চন্দ্রনাথ, শুভদা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, বড় ভালো লোক ছিল, বাবা কেন চাকর তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক।

নায়করাজ রাজ্জাক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয় করে। এরপর আরও চারবার তিনি জাতীয় সম্মাননা পান। এছাড়া ইন্দো-বাংলা কলা মিউজিক পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার, ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র আজীবন সম্মাননা, ইফাদ ফিল্ম ক্লাব পুরস্কার পান তিনি।

x

Check Also

মন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও অভ্যন্তরীণ চলাচলে নতুন প্রটোকল জারি

এমএনএ প্রতিবেদক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশ গমন, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ...