শান্তিতে নোবেল পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী প্রচারণা ‘আইক্যান’
Posted by: News Desk
October 6, 2017
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন বা আইক্যান) অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রচারাভিযান।
আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রেসিডেন্ট বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার মানবিক যে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনে তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণে সংস্থাটির কাজের জন্য এবং এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি চুক্তি-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে উদ্ভাবনীমূলক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্থাটি এই পুরস্কার পেয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) একটি জোট হিসেবে নিজেদের পরিচিতি দেয় দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)। শত শত এনজিওর এই জোট প্রায় ১০ বছর ধরে শতাধিক দেশে কাজ করছে। জেনেভাভিত্তিক এই গোষ্ঠী অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম কাজ শুরু করে। ২০০৭ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিয়েনায় কাজ শুরু করে। ১০ বছর আগে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আইক্যান’। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অলাভজনক সংস্থা হিসেবে ‘আইক্যান’ বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে প্রচারণা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
আইসিএএন নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে পাবে ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। আগামী ডিসেম্বরে নোবেল কমিটির আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইসিএএনের হাতে একটি মেডেল তুলে দেওয়া হবে। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়ার অনুষ্ঠানে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি বলেছে, বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। উত্তর কোরিয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটির নেতা বেরিট-রিজ-অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করি, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি।’

বেরিট-রিজ-অ্যান্ডারসন বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী প্রচেষ্টার’ জন্য আইসিএএন-কে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ সময় পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশগুলোকে এসব অস্ত্র পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করার জন্য আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির এই নেতা।
গত জুলাইয়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ ও পর্যায়ক্রমে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রণীত জাতিসংঘের একটি চুক্তি ১২২টি দেশ গ্রহণ করে। পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী নয়টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। চুক্তিটি অবশ্য তার দেশে গণভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে নোবেল শান্তি কমিটি মনে করে- শান্তি স্থাপনের জন্য তার ঐতিহাসিক উদ্যোগ বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
গত সোমবার চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল মওসুম শুরু হয়। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় জীবকোষের শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের আণবিক পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসায় নোবেল পান যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিজ্ঞানী— জেফরি সি হল, মাইকেল রোজবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়াং।
গত মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীদের নাম। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর যৌথভাবে পদার্থে নোবেল পান রেইনার ওয়েস, ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থ্রোন।
এরপর গত বুধবার রসায়নে এ বছর নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। জৈবিক অণুর ছবি তোলার উন্নত পদ্ধতি আবিষ্কার করার এ বছর জার্মানির জ্যাকুয়েস দুবোশে ও জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক এবং স্কটল্যান্ডের রিচার্ড হ্যান্ডারসনকে রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় এ বছর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম। এবার বিশ্ব সাহিত্যের সবচেয়ে সম্মানজনক এ পুরস্কার পান ব্রিটিশ লেখক কাজুও ইশিগুরো।
আগামী সোমবার ঘোষণা করা হবে এ বছরের অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার বিজয়ীর নাম।
শান্তিতে নোবেল পারমাণবিক পেল প্রচারণা অস্ত্রবিরোধী 'আইক্যান' 2017-10-06