সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে ফুটপাথে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের একাংশের চিত্র।
শামীম-আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৫০
Posted by: News Desk
January 16, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সমর্থকদের মধ্যে ফুটপাথে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাথে আজ মঙ্গলবার থেকে হকারদের বসতে বলেন শামীম ওসমান। বিকেল ৪টার দিকে চাষাড়ায় শহীদ মিনারের কাছে হকাররা বসে। সাড়ে চারটার দিকে ‘হকার মুক্ত ফুটপাত চাই’ স্লোগান ধরে লোকজন নিয়ে চাষাঢ়ার দিকে হেঁটে আসছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি কিছু হকারদের ফুটপাথ থেকে তুলে দেন। এ সময় সায়েম প্লাজা থেকে আইভীর লোকজনের ওপর বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে সড়কে পড়ে যান সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাঁর পায়ে ইটের আঘাত লেগেছে। এক পর্যায়ে সায়েম প্লাজার কাছে শামীম ও আইভীর সমর্থদের মধ্যে সংর্ঘষ বেঁধে যায়। প্রথমে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে পরে তাদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয় বলে জানা যায়।
সেখান থেকে তিনি সায়েম প্লাজার পাশে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে।
-

-
সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে ফুটপাথে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের একাংশের চিত্র।
-

-
সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে ফুটপাথে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের একাংশের চিত্র।
-

-
ইট-পাটকেল ছোড়ার পর ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে সড়কে পড়ে যান সেলিনা হায়াৎ আইভী।
ঘটনাস্থল চাষাঢ়ায় পুলিশ থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকেরা পুলিশের কাছে জানতে চান, তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুলিশ জানায়, অর্ডার নেই। তবে পাঁচটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসে।
প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আইভী বলেন, ‘আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। আমি শান্তিপূর্ণভাবে হেঁটে আসছিলাম। চাষাঢ়ার রাইফেলস ক্লাবে বসে শামীম ওসমান আমার ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ পেয়ে তাঁর লোকজন ইটপাটকেল ছোড়ে। এটা নিরস্ত্র লোকজনের ওপর সশস্ত্র হামলা। এ হামলায় সাংবাদিকসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন।’
সিটি করপোরেশনে একমাত্র নারী মেয়র আইভী অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পদত্যাগ দাবি করেন।
পুলিশের নীরব ভূমিকার ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের মাঝখানে থেকে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। জানমালের নিরাপত্তা দিতে চেষ্টা করেছি।’
এ ব্যাপারে শামীম ওসমান জানান, তার নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে দুই পক্ষকে হটিয়ে দিলেও এখনও শহরে উত্তেজনা চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল।
সংঘর্ষ সমর্থকদের আইভীর আহত ৫০ শামীম 2018-01-16