এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী এবং মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু আর নেই। ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে নিজের স্থাপিত মুন্নু সিটির মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী হুরুন নাহার, দুই মেয়ে আফরোজা খান রিতা ও ফিরোজা খাননহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছে।
মুন্নুর জ্যেষ্ঠ কন্যা আফরোজা খান রিতার ব্যক্তিগত সহকারী রেজাউল করিম রেজা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রেজা আরও জানান, মুন্নু দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
বিশিষ্ট এ শিল্পপতির মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মানিকগঞ্জসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিষাদের ছায়া নেমে আসে।
মুন্নু ১৯৯১ সালে মানিকগঞ্জ-২ (শিবালয়-হরিরামপুর) আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি ওই আসন থেকে অনায়াসে জয়লাভ করেন।
২০০১ সালে এই আসনের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ-৩ (সদর- সাটুরিয়া) আসনেও জিতেন মুন্নু। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তাকে মন্ত্রী করা হলেও সে সময় তাকে কোন দপ্তর দেয়া হয়নি।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন মুন্নু। তবে বিএনপির সর্বশেষ কমিটিতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।
মুন্নুর কন্যা ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি আফরোজা খান রিতা লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে আসার পর দাফনের সময় ঠিক করা হবে জানিয়েছেন।
কনিষ্ঠ কন্যা ফিরোজা মাহমুদ পারভীন সাবেক জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী।
মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক আবদুল আউয়াল আজ গণমাধ্যমকে জানান, মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এরপর বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
তৃতীয় জানাজা হবে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ শিল্পপতির নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ধামরাইয়ের মুন্নু সিরামিকসে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মানিকগঞ্জে। সেখানে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে দুপুর দেড়টায় চতুর্থ জানাজা হবে। তারপর এ রাজনীতিবিদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর জন্মস্থান গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পাটগ্রামে। সেখানে দুপুর আড়াইটায় পাটগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চম জানাজা হবে।
ষষ্ঠ ও শেষ জানাজা হবে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মাঠে বিকেল ৪টায়। তারপর গিলন্ড মুন্নু সিটিতে মসজিদের পাশে বিশিষ্ট এই শিল্পপতিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
মুন্নু আর্ট প্রেসের মাধ্যমে তাঁর যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণতা পায় মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তিনি মুন্নু সিরামিক, মুন্নু জুটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু ফেব্রিকস ও মুন্নু অ্যাটায়ার লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।
মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য অবদান। মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মুন্নু নার্সিং ইনস্টিটিউট, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তাঁর উদাহরণ।
তিনি ১৯৩৩ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জ মডেল হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, জগন্নাথ কলেজ থেকে আইকম ও বিকম এবং প্রাইস ওয়াটার হাউস পিট অ্যান্ড কোম্পানি থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট (সিএ) কোর্স সম্পন্ন করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

