Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে
পদ্মাসেতু

শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মাসেতু এখন জনগনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য পদ্মাসেতু গর্ব করা এক অহংকারের নাম। এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলাকে রাজধানী তথা পুরো দেশের সাথে সংযুক্ত করেছে। অনেক বাধা বিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এই বিশাল মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।  বাংলাদেশের অহংকারের প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।  তাই পদ্মাসেতু আমাদের গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের ফসল্। পদ্মাসেতুর সফল বাস্তবায়নের একক কৃতিত্বের দাবীদার জাতির জনককন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। তাঁর অসীম সাহস দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের জন্য পদ্মাসেতুর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এর ফলে শেখ হাসিনা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। দেশের প্রয়োজনে কিভাবে কখন সাহসী পদক্ষেপ নিতে হয় শেখ হাসিনা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অনুকরণীয়।

বিগত চৌদ্দ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।চতুর্থ মেয়াদে সরকার প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলে আধুনিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। তম্মধ্যে পদ্মাসেতু তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে আরোও বেশ কিছু মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

 পদ্মাসেতুর প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০১ সালের ৪ঠা জুলাই। তাঁর সরকারের প্রথম মেয়াদের শেষের দিকে তিনি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।মাঝখানে জোট সরকার ক্ষমতায় এসে পদ্মাসেতুর কাজে হাত দেয়নি। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। ক্ষমতারোহনের প্রথম মাসেই পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ১০২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০০৯-১০ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ ছিল ১০.৭৫ মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং জনসংখ্যার মাত্র ৩.১% ইন্টারনেট ব্যবহার করতো।সঙ্গত কারণে পদ্মাসেতু প্রকল্প তখন বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা মনোভাব ও অসীম সাহসিকতার কারণে এই চ্যালেঞ্জিং প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব হয়েছে।

পদ্মাসেতুর পাশাপাশি অন্যান্য মেগাপ্রকল্পও চলমান ছিল। পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের কথা থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তহবিল বাতিল করে। বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের বলী হতে হয়েছে তৎকালিন যোগাযোগমন্ত্রী ও সচিবকে। মন্ত্রী মন্ত্রীত্ব হারিয়েছেন আর সচিবকে জেলে যেতে হয়েছে। কানাডার আদালতে পদ্মাসেতু বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের করা মামলায় কোন দুর্নীতি প্রমাণিত না হওয়ায় এর পেছনে এক গভীর ষড়যন্ত্র ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু নিয়ে সুগভীর চক্রান্তের উপযুক্ত জবাব দিতে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

ঐসময় বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা পদ্মাসেতুতে ঋণ দিতে অস্বীকার করায় চীন ও মালয়েশিয়া সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশের ক্রমবর্ধমান চাঙ্গা অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে উৎসাহিত হয়ে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

শেখ হাসিনার মতো তৃতীয় বিশ্বের অন্য কোন রাষ্ট্রনায়ক এরকম দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন কিনা সন্দেহ আছে!

২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হবার পর পদ্মাসেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে যায়। বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াসহ সমালোচকরা বলেছেন, পদ্মাসেতু কখনো শেষ হবেনা। কিন্তু শেখ হাসিনা সমালোচকদের কোন কথাই কানে তোলেননি। তিনি পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করেন। নির্মাণ কাজ শুরু হবার পর বেশ কিছ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, নদী শাসন, পাইলিংয়ে প্রকৌশল দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। সব বড় আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালে পুরো বিশ্ব যখন থমকে দাড়ায় তখন শেখ হাসিনার সদিচ্ছা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম  পুরোদমে এগিয়ে চলে। যমুনা সেতুর দৈর্ঘ ৪.৯৮ কিলোমিটার। যা পদ্মাসেতুর দৈর্ঘের দুই-তৃতীয়াংশ। যমুনাসেতু নির্মাণে সময় লেগেছিল ১৩ বছর। সেই সময়ে তিনটি সরকার পরিবর্তন হয়েছিল। অথচ শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া অন্যরা যমুনা সেতুর কাজে ভূমিকা রাখেননি। কিন্তু পদ্মাসেতু নির্মাণে শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা মনোভাবের জন্য মাত্র ৭ বছর সময় নিয়েছে। অনেকে নেতিবাচক চিন্তাও করেছে শেখ হাসিনা সরকারের বড় বড় মেগাপ্রকল্প নিয়ে। সাম্প্রতিককালে শ্রীলংকার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের সাথে শেখ হাসিনাকে তুলনা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তব সত্য যে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা সরকার যতগুলো মেগা প্রকল্প গ্রহন করেছে সবগুলোর কাজ সমানভাবে এগিয়ে চলেছে। যা শেখ হাসিনার সুচিন্তিত ও যোগ্য রাষ্ট্র পরিচালনার ফসল।

অর্থনীতির দিক থেকে পদ্মাসেতুর কাজ চলমান অবস্থায় অনেক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বৈদেশিক রিজার্ভ মে, ২০২২ সালে ৩৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫,১৫৮ গিগাওয়াট ঘন্টায়, জনসংখ্যার ৩১.৫% ইন্টারনেট অ্যাক্সেস রয়েছে এবং জীবনমানের সূচক সর্বকালের সর্বোচ্চ। বৈদেশিক রেমিট্যান্স উল্লেখজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান মাথাপিছু আয় ২,৮৪ মার্কিন ডলার। যেখানে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথাপিছু আয় ১,৮৫০ ডলার এবং পাকিস্তানের ১,২৫০ ডলার।যে পাকিস্তানকে ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি সেই পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন সূচকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। এমনকি বেশ কয়েকটি সুচকে ভারতকেও টপকে গেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিকভাবে নেপাল ভুটান শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের চেয়েও অনেক ভাল অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ।

অনেক বুদ্ধিজীবী পদ্মাসেতু প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, এতো বড় প্রকল্প বাংলাদেশের পক্ষে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব! অনেক রাজনৈতিক নেতাও তাদের সাথে একইভাবে সুর মিলিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা ছিলেন পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রত্যয়ী  ও প্রতিজ্ঞব্ধ। তিনি দেশবাসীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করেছেন। যা তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব ও সাহসিকতার ফসল।

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা অনেক সাহসী পদক্ষেপ নেন; যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের খুনীদের বিচার নিশ্চিত করা; সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স; বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজ করাসহ বেশ কয়েকটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইত্যাদি। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সব কাজ সম্পাদন করতে পেরেছেন। সত্যি তিনি দেশের কল্যাণে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন।

দীর্ঘ মেয়াদে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিলেও ক্ষমতাকে কখনো নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেননি। শ্রীলংকার রাজপাকসের মতো বিলাসবহুল জীবনকে বেছে নেননি। দেশ ও জনগনের কল্যাণে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। যেকারণে তিনি শুধু দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় নন, ইতিমধ্যে তিনি বিশ্বনেতাদের কাতারে এক অনন্য উচ্চতায় নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। ২১ বার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হযেছিল, পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা  করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে। পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অন্যান্য নেতাদের মতো পরিবারের সদস্যদের কোন সুবিধা দেননি। বরং বেআইনি কর্মকান্ডে দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন, অনেককে কারাগারে পাঠাতে পিছপা হননি। তাঁর সততা ও প্রতিশ্রুতির জন্য আজ জনগনের কাছে একজন নির্ভরশীল রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরিত হয়েছেন। তিনি যে অবস্থানে পৌঁছে গেছেন আগামীতে তাঁর অবস্থানে যাওয়া অন্য যেকোন রাজনৈতিক নেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে সন্দেহ নেই।

অনেকের মতে, তাঁর নেতৃত্ব দেশের অগ্রগতির দিক থেকে মালয়েশিয়ার মাহাথির মুহাম্মদ  বা তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও ছাড়িয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।

আগামীতে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন নেতৃত্ব আসবে। সেই নতুন নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করুক বা জনগন ও দেশের কল্যাণে তাঁর চেয়েও ভালো করলে তো কথাই নেই!

বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে দুটি পদ্মাসেতু করবেন। তা যদি সত্যি বাস্তবায়ন করতে পারেন তার সুফল তো দেশের মানুষই ভোগ করবেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের সবাইকে শেখ হাসিনার মতো সারল্য, তাঁর জীবনধারা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসিকতা অনুসরণ করা উচিত।  সেটাই কামনা থাকবে সবার।

অনেক রাজনৈতিক নেতা আগামী নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলে ক্ষমতা দখলের কথা ভাবেন। আর শেখ হাসিনা ভাবেন  এদেশের মানুষের জন্য একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কথা। এজন্য শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের কথা আজন্ম মনে রাখবে এদেশের মানুষ।

লেখকঃ মিয়া মনসফ, যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...