এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানেই দিল্লি যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসিনার সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ৮ এপ্রিল দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।
এই ভোজে যোগ দিতে আগামী শুক্রবার দিল্লি যাচ্ছেন মমতা। নবান্নের একটি বিশেষ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
আজ বুধবার রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে তিনি বলেন, দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বিষয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন। তার সম্মানেই রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিল্লি যাচ্ছি।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে মমতার যোগ দেওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মমতার এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে কূটনীতিক মহল।
এই নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি কথা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাষ্ট্রপতি ভবনে এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়।
৮ এপ্রিল দিল্লির হায়দরাবাদ ভবনে ভারতীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ এপ্রিল তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন। তাঁর সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শুরুতে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেননি। এরপর রাষ্ট্রপতি নিজে টেলিফোনে মমতাকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মমতা আগামী শুক্রবার দিল্লি যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। নৈশভোজে মমতার উপস্থিত থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় ছিল। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন নিয়ে এখনো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মমতার ঐকমত্য হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে সবুজ সংকেত দিলেও আপত্তি তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি চুক্তির পক্ষে। তবে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তিনি চুক্তি করতে চাইছেন না। ফলে রাজনীতির এই আবহে রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে মমতা উপস্থিত থাকবেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে রাষ্ট্রপতি মমতাকে ফোন করার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
এর আগে সকালে প্রাতরাশ টেবিলে মোদির সঙ্গে মমতার বৈঠক হতে পারে। এ বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন দাবির সঙ্গে তিস্তা প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠবে বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।
সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার সঙ্গে কলকাতা-খুলনা-ঢাকার মধ্যে বাস পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মমতা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

