সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বিপাকে বরিস জনসন
Posted by: News Desk
September 4, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সন্ধ্যার ‘ক্রাঞ্চ’ ভোটের আগে বিকেলের অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি ভোটে হারলে দেশটিতে আগাম নির্বাচন হবে।
বিরতির পর গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটেনের পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হয়। এদিন বরিসের শুভেচ্ছা বক্তব্যের সময় তার দলের অর্থাৎ টোরি এমপি ফিলিপ লি লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের বেঞ্চে যোগ দেন।
লির চলে যাওয়া বরিসের জন্য ‘অশনি’ সংকেত। কারণ সংসদে এখন তিনি আর সংখ্যাগরিষ্ঠ নন।
সন্ধ্যার দিকে ব্রেক্সিট বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপর এ ধরনের ভোটকে ‘ক্রাঞ্চ’ ভোট বলা হয়। এখানে হারলে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। অথচ ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের হাতে কোনো পথরেখা নেই। ওদিকে বিরোধী দলের সঙ্গে মিলে বিদ্রোহী টোরি এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে চেষ্টা করছেন।
তাদের চেষ্টা সফল হলে আগামী ১৪ অক্টোবর আগাম নির্বাচনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। তা ছাড়া, নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের বহিষ্কার করারও হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
টোরি দলের সঙ্গে ২৭ বছর কাটানোর পর এদিন পক্ষত্যাগ করার সময় লি বলেন, ‘১৯৯২ সালে আমি যে দলটিতে যোগ দিয়েছিলাম, আজ আর তারা সেই দল নেই।’
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে।’
‘ব্রিটেন এক্সিট’কে সংক্ষেপে বলা হয় ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ একে অন্যের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারে, নাগরিকেরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারে এবং সেখানে বসবাস করতে পারে।
প্রায় ৪০ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।
এই ভোটের পর সেখানকার রাজনীতি রীতিমতো এলোমেলো হয়ে গেছে। সরকারি-বিরোধী দলের অনেকেই ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। পক্ষে থাকার কারণে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে থেরেসা মেকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিসও থেরেসার মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে অনড়।
হারিয়ে বরিস জনসন সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিপাকে 2019-09-04