এ মুহুর্তে দেশের সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে দলমত নির্বিশেষে সবার সহায়তা প্রয়োজন। কারণ গুলশান ও শোলাকিয়ায় বড় জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তার প্রশ্নে কিছু অভাবিত নতুন বিষয় উদ্ঘাটিত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের তৎপরতা সম্পর্কেও নতুন কিছু দিক জানা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে কিছু তথ্য আগে থাকলেও যথাযথ গুরুত্ব আরোপিত হয়নি বলে অনুমান অমূলক নয়। অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হলে সেটাও অস্বাভাবিক নয়। বরং এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পুলিশ, গোয়েন্দাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা যে জঙ্গি দমনের নতুন ক্ষেত্রগুলোতে ত্বরিত ও যথাযথ পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সকলের উচিত জঙ্গি দমনে সরকারের পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং নিজেদের এগিয়ে আসা।
নতুন দিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চমকানো বিষয় হলো সুপ্রতিষ্ঠিত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া তরুণরা পরিবার ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে এসে বর্বর কায়দায় নরহত্যায় অংশগ্রহণ করেছে। মাদ্রাসায় পড়া, বিশেষত কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ধর্মান্ধ পথে যেতে আমরা দেখেছি। কিন্তু ১ জুলাই গুলশানের হামলায় অংশ নিয়ে যে
পাঁচ যুবক মারা পড়ল তাদের পরিবারের সামাজিক অবস্থান ও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করলেও এ হামলা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা-স্থিতিশীলতা নষ্ট করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদী ধারার অংশ।
দু’বছর আগে লন্ডনের মতো পাশ্চাত্য নগরের বহু সংখ্যক অল্প বয়স্ক মুসলিম তরুণ-তরুণীকে পালিয়ে সিরিয়া চলে যেতে দেখা গেছে। কেন, কীভাবে এদের মগজ ধোলাই হচ্ছে তা নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে। এই মুহুর্তে আমাদের প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদের দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানদের ওপর নজর রাখা, স্নেহ-মমতার বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং কেউ নিখোঁজ হলে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো। কোনো নিজস্ব স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় এ রকম তথ্য গোপন করা যাবে না।
ঈদের দিন গণভবনের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানিয়েছেন; তাতে সাড়া দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিকদের পরস্পরকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। গতকাল আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা যাতে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র ১০ দিন বা তার বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাদের নাম-পরিচয় মন্ত্রণালয়ে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটা সঠিক কার্যক্রম।
তবে এ ব্যাপারেও আমাদের সজাগ থাকা উচিত যে, আমাদের দৃষ্টি যেন একপেশে না হয়ে যায়। যখন যেটা সামনে আসে সেটাতেই একান্ত ঝুঁকে না পড়ি। কওমি মাদ্রাসা, প্রাথমিক-মাধ্যমিকে বহুবিভক্ত শিক্ষাধারার পরিবর্তে একধারার শিক্ষা চালু করা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো যেন আমরা না ভুলি। জঙ্গি সমস্যা সমাধানের সামগ্রিক দৃষ্টি যেন না হারায়।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
