এমএনএ রিপোর্ট : সারা দেশের মোট ২৮৫টি বেসরকারি কলেজকে সরকারীকরণের জন্য চূড়ান্ত করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে এসব কলেজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), বিভিন্ন জেলা প্রশাসক এবং সংশি্লষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের কাছে গত বৃহস্পতিবার পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওইসব প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বর্তমানে কলেজের নামে আছে। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি হতে হলে তার সম্পদ সরকার বা সংশি্লষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে থাকে। এক্ষেত্রেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের নামে বরাবর রেজিস্ট্রি করা দানপত্র দলিল (ডিড অব গিফট) হস্তান্তর করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে মাউশি পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হুদা বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চিঠি আমরা গত বৃহস্পতিবার শেষ বিকালে পেয়েছি। সে কারণে ওইদিন ব্যবস্থা নিতে পারি। আজ (রবিবার) তা সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে পাঠানো হয়েছে।’
এর আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব কলেজ সরকারি করতে সম্মতি দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজ সরকারি করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কলেজের আত্তীকৃত হওয়া শিক্ষকেরা আপাতত অন্য কলেজে বদলি হতে পারবেন না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি কলেজ ৩২৭টি। নতুনগুলো হওয়ার পর মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ছয় শতাধিক।
বর্তমানে দেশে সরকারি স্কুল ও কলেজ আছে যথাক্রমে ৩৩০ ও ৩৩৫। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৫সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই দেশে এমন উপজেলা যথাক্রমে ৩২১ এবং ৪৪৬টি।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দফায় ২৯৬টি কলেজ ও ১২৩টি হাইস্কুল সরকারি করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সিদ্ধান্ত দেন। অবশ্য এরমধ্যে ৫টি কলেজ এবং ৭টি হাইস্কুলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে স্থগিত করা হয়।
সে হিসেবে ২৯১টি কলেজ ও ১১৬টি হাইস্কুলের পরিদর্শনের নির্দেশনা পায় মাউশি। এর মধ্যে ২৭৬টি কলেজ ও ৪৮টি হাইস্কুলের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি অর্থবছর সর্বোচ্চ ১০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে সরকারি করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।
এ কারণে নতুন করে প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে। তবে এ অবস্থার মধ্যেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয়করণের কাজ এগিয়ে নিতে চাচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

