এমএনএ রিপোর্ট : মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন চার মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এই হত্যা মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিস্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাও বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের আদেশ সংশোধন চেয়ে এমপি রানার আবেদনে সাড়া না দিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
আদালতে এমপি রানার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দীন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানি শেষে আপিল বিভাগে তার আগের দেয়া আদেশই বহাল রাখে।
এর আগে গত ৮ মে এমপির রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এই মামলা ৬ মাসের জন্য নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়।
গত ১৩ এপ্রিল এমপি রানাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুলও জারি করেন আদালত।
বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এএনএম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ।
এর আগে গত ৩০ মার্চ এমপি রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে আবারও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এমপি রানাকে জামিন দিয়েছিলো। ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে দেয়।
জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি করে হত্যার পর তার বাড়ির সামনে লাশ ফেলে রাখা হয়। এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামিদের জবানবন্দিতে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে এমপি আমানুর রহমান খান রানা, মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও তার দুই ভাইয়ের নাম উঠে আসে। এই মামলায় গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমানুর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

