Don't Miss
Home / আইন আদালত / সাঁওতালপল্লীতে আগুনের ঘটনায় দুই পুলিশ চিহ্নিত

সাঁওতালপল্লীতে আগুনের ঘটনায় দুই পুলিশ চিহ্নিত

এমএনএ রিপোর্ট : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য চিহ্নিত হয়েছেন।

অগ্নিসংযোগে জড়িত দুই পুলিশ সদস্য হলেন গাইবান্ধা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেন।

পুলিশ সদস্য মাহবুবুর ও সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার দিন দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫৮ জন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছ। এ ছাড়া পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলামকে গাইবান্ধা থেকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

পুলিশ প্রশাসনের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন আদালত।

গত ৩০ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে ৬৫ পৃষ্টার এই প্রতিবেদন দাখিল করেন গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ।

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি পুলিশের পক্ষ থেকে এ তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়। এর আগে বিচারিক তদন্তে সহযোগিতা না করায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জের চামগাড়ীতে দায়িত্বরত সকল পুলিশ সদস্যকেও প্রত্যাহার করতে বলা হয়। এই আদেশও বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং উক্ত ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। কয়েকজন পুলিশ সদস্যর জন্য পুরো বাহিনী দায়ী হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই আগুন লাগানোর ঘটনার সাথে ২ জন পুলিশ সদস্য ও ১ জন ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একজনসহ পুলিশের তিন সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তাদের চেনা যায়নি। ওই সময় তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং ঘটনার যেসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, তা দূর থেকে ধারণ করায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত বছর ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালপল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখল কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সাঁওতালপল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ওই সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। এরপর সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং সাঁওতালরা হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করেন। যার মধ্যে দুটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

x

Check Also

এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ...